মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও , জনতারআদালত.কম । ২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ।

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈলে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের নির্মম নির্যাতনে অঞ্জনা রানী (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গৃহবধূর শ্বাশুড়ি ও দেবরকে আটক করেছে।
অঞ্জনার মা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে অঞ্জনা রানী (৩০) কে বিয়ে করে নারায়নপুর গ্রামের জগেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে পুষ্প চন্দ্র রায়। অঞ্জনার রয়েছে শিশু বয়েসের দুই ছেলেমেয়ে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে অঞ্জনার উপড় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। গত ১৬ নবেম্বর সকালে স্বামী পুষ্প চন্দ্র ও তার পরিবারের লোকজন এক লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য অঞ্জনা রানীকে তার বাবার বাড়িতে যেতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় স্বামী পুষ্প চন্দ্র চুলের মুঠি ধরে অঞ্জনাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এ সময় শ্বাশুড়ি, দেবরসহ পরিবারের অন্যান্যরাও তাকে বেধরক মারপিট করে। এক পর্যায়ে অঞ্জনা রানী অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি মেম্বার তাকে উদ্ধার করে রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর রাতে মারা যায় অঞ্জনা রানী।
এ ঘটনায় পুলিশ মৃতের শাশুড়ি অলকা রানী (৪৫) ও দেবর সুদেব চন্দ্র (২০) কে আটক করেছে।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঞ্জনা রানী নিজে বাদী হয়ে স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরসহ সাত জনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল। উক্ত অভিযোগে সেই মামলা ২৭ নভেম্বর সোমবার সকালে রানীশংকৈল থানা পুলিশ রজু করেছিল। কিন্তু মামলার অগ্রগতি দেখার আগেই অঞ্জনারাণী মঙ্গলবার ভোর রাতে পারী জমিয়েছে না ফেরার দেশে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
রানীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


























