spot_img

স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ না পায় : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ।

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বিকেলে ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপত্বিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেন।

৭ মার্চের ভাষণের কথা হলে প্রথমে মায়ের কথা মনে পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চে ভাষণ দেয়ার আগে মা বাবাকে ঘরে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, তুমি ১৫ মিনিট রেস্ট নাও। তখন অনেকের কাছ থেকে অনেক রকম পরামর্শ আসছিলো। মা যখন তাকে ঘরে নিয়ে যান, তখন তার পাশে আমি ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, এই দেশের জনগণের জন্য তুমি সারাজীবন সংগ্রাম করেছো, আন্দোলন করেছো। অনেকে অনেক কথা বলবে, কিন্তু তুমি ভাষণে সেই কথাই বলবে, যেটা তোমার মনে আসবে। তুমি ভালো জানো কী বলতে হবে। এই দেশের মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে।

ইউনেসকোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছে আজ।

সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ, এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যানার নিয়ে সমাবেশে আসতে শুরু করে। দুপুরের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে এ বিশাল উদ্যান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ যেখানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শুনিয়েছিলেন স্বাধীনতার অমর সেই বাণী, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’

আজ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আবহ ফিরে পেয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সমাবেশস্থল সাজানো হয়েছে সেই দিনের মতো করে।পাটবোঝাই পাল তোলা নৌকা। আর নৌকার পালে আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিভিন্ন অংশ। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ’, ‘তোমাদের হাতে যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’ ।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু করা হয়।সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ইমেরিটাস অধ্যাপক  ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী।

বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় গান ও কবিতা। পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র, নজরুল আর মরমি কবি লালন শাহের গান।
বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরু করেন।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছে, আজ যখন ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে তখন তাদের কি লজ্জা হয় না? জানি না এদের লজ্জা-শরম আছে কিনা? কারণ এরা তো পাকিস্তানি বাহিনীর প্রেতাত্মা।
শেখ হাসিনা বলেন, তখন ৫৬ শতাংশ মানুষ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। কিন্তু বাঙালির কোনো অধিকার ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণ শোষণ করেছে। তারা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী  বলেন, বাঙালিরা শাসনভার হাতে নিক তা পাকিস্তানিরা কখনও চায়নি। ডিসেম্বরের ৭ তারিখ ইলেকশন হয়। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি গেল কিন্তু তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বঙ্গবন্ধুর কথায় এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সেদিন ভাষণ দিয়েছিলেন লাখো মানুষ এসেছিল এ রেসকোর্স ময়দানে। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে এখানে এসেছিল তারা।
‘জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাগ্রত করেছিলেন বাঙালি জাতিকে। ৭ মার্চ সেদিন তার নির্দেশনা নিতে লাখ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে এসেছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ট্রাজেডির পর বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার শত চেষ্টা হলেও ইতিহাসে যার নাম অক্ষয়, তা মুছে ফেলা যায়নি।স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন আর কখনও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ না পায়, সেজন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ