মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও, জনতারআদালত.কম । ৫ নভেম্বর, ২০১৭ ।

ঠাকুরগাঁওয়ে যৌতুকের দাবিতে খাটের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আঞ্জুয়ারা বেগম (৩১) নামে এক গৃহবধূ। ৪ নভেম্বর শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমন অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামে ।
আঞ্জুয়ারা হাজীপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও শহরের ফকিরপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার মো. জবান আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে প্রায় সময় স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজনেরা আঞ্জুয়ারাকে মারপিট করতো।
বৃহস্পতিবার ( ২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামীর সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় আঞ্জুয়ারার। সে সময় তার স্বামী আব্দুস সাত্তার, শ্বশুর জবান আলী, শ্বাশুরী সবুরা বেগমসহ ওই পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঞ্জুয়ারাকে বেধড়ক মারপিট করে। এমনকি তারা আঞ্জুয়ারাকে খাটের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারপিট করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আঞ্জুয়ারার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক শুভেন্দু কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আঞ্জুয়ারা বেগমের ডান হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং মাথায় ৪টি শেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে।’
এ ব্যাপারে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘গৃহবধূকে মারপিটের ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কিন্তু এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুস সাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


























