ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২১ আগষ্ট, ২০১৭ ।

চলতি বছর দেশের পদ্মা,যমুনা ও গঙ্গা অববাহিকা এলাকার ২৯টি স্থানে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কয়েক মাস পূর্বেই সতর্ক করে প্রচারণা চালানো এবং তাদেরকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে সকল মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে।
আজ সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও ব্র্যাকের এক পরামর্শ সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত তথ্যের উপর গবেষণা করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালায়ের ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস এই ২৯ টি স্থানকে ২০১৭ সালের নদী ভাঙ্গন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে ব্র্যাক ১৩টি স্থানে ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার ঝুঁকিপর্ণ এলকায় প্রচারণা ও সতর্কীকরণে কাজ করছে। ভাঙ্গণের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ঝুঁকির উপর ভিত্তি করে ব্র্যাক কুড়িগ্রামের রৌমারী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, রাজবাড়ির পাংশা ও কালুখালী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার মানুষকে সতর্ক করার কাজ করছে বলে সভায় জানানো হয়। একটি পরিববার একাধিকবারও ভাঙ্গণের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ছয়বার ভেঙ্গেছে এমন পরিবারও আছে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় রৌমারি উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের আবদুল মতিন সরকার তার ২৭বিঘাজমিসহ পৈতৃক ভিটা হারানোর কথা জানিয়ে বলেন, লাল ও হলুদ পতাকা দিয়ে এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ ভিটা-বাড়ি রক্ষা করতে না পারলেও জীবন নিয়ে বাাঁচতে পারেন। সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বড় নদীগুলোর চ্যানেল পরিবর্তন এবং বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার কারণে দেশে নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।
ফলে প্রতি বছর নদী তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ বসতভিটাসহ আবাদী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। এ অবস্থায় নদী ভাঙ্গণের আগাম তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই জরুরি। ভাঙ্গণ কবলিত এলাকাগুলো রক্ষায় নদীর তীর সংরক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
সভায় ‘২০১৭ সালের জন্য নদী ভাঙনের পূর্বাভাস’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিইজিআইএস-এর রিভার, ডেল্টা অ্যান্ড কোস্টাল মরফোলজি ডিভিশনের জুনিয়র স্পেশালিস্ট সুদীপ্ত কুমার হোড়। সভায় ‘নদী ভাঙনের পূর্বাভাস জ্ঞাপন: পূর্ববর্তী বছরসমূহের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির (ডিএমসিসি) সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট মোঃ জাফর ইকবাল।
সভা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের ডিএমসিসি কর্মসূচির পরিচালক গওহার নঈম ওয়ারা ও সিইজিআইএস-এর উপনির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকার। গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, আমরা নদী ভাঙ্গণের পূর্বাভাস প্রদানে প্রযুক্তিগত অর্জিত দক্ষতা সার্থক করতে নদী ভাঙ্গণ এলাকায় সময়মত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি এবং নদী শাসনের কর্মকান্ডে এ তথ্যসমূহ ব্যবহার করতে পারি।
ড. মমিনুল হক সরকার নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নদী ভাঙ্গণে মানুষ তার জমি বা ভিটেবাড়িও হারিয়ে চরম দু:খ কষ্টে দিন কাটায়। সভায় পদ্মা,যমুনা ও গঙ্গা অববাহিকা এলাকাসহ মেঘনা নদীর ভাঙ্গণ কবলিত এলাকাও যুক্ত করার আহবান জানান হয়।


























