spot_img

২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে ম্যাচ ছেড়েছিল শ্রীলঙ্কা : রানাতুঙ্গা

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১৫ জুলাই, ২০১৭ ।

 

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা শুক্রবার এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, ‘২০১১ সালের ২ এপ্রিল মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা ম্যাচ কার্যত ছেড়ে দিয়েছিল ভারতকে।’

ইংলিশ সংবাদপত্র ডেইলি মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রানাতুঙ্গা বলেন, ‘সেদিন আমি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রি বক্সে ছিলাম। শ্রীলঙ্কা দল প্রথম ব্যাট করে ২৭৪ রানের টার্গেট খাড়া করেছিল ভারতের সামনে। মাহেলা জয়বর্ধনে ১০৩ রানের অপরাজিত একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পর পর দু’টি উইকেট হারায় ভারত।

ভারতের দুই বিস্ফোরক ওপেনার বীরেন্দ্র সেওয়াগ (০) ও শচীন তেন্ডুলকর (১৮) দ্রুত আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। কিন্তু তারপর বাজে বল করে শ্রীলঙ্কার বোলারার। কুলশেখরা ও তিসারা পেরেরা দুর্বল বোলিং করে দুই ভারতীয় ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর (৯৭) ও মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (অপরাজিত ৯১) উইকেটে থিতু হয়ে জয়ের কড়ি জোগাড় করতে সাহায্য করে। আমি এই ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গড়া হোক।’

উল্লেখ্য, মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ভারত ঘরের মাঠে দীর্ঘ ২৮ বছর বাদে সেবার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। তখন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রধান ছিলেন শশাঙ্ক মনোহর। আইসিসি’র চেয়ারম্যান ছিলেন শারদ পাওয়ার। তখনই অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, শচীন তেন্ডুলকরকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেওয়ার জন্যই শারদ পাওয়ার নাকি পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন। এছাড়া সেই মুহূর্তে তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃত্বে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার টুজি, কয়লা কেলেঙ্কারিতে ক্রমশ জর্জরিত হচ্ছিল। সেদিক থেকে মিডিয়ার দৃষ্টি ঘোরাতেই নাকি ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর ছক করা হয়েছিল।

ফাইনাল ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে শ্রীলঙ্কা দলে রহস্যজনকভাবে চারটি পরিবর্তন করা হয়। হঠাৎ কয়েকজন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার নাকি চোট পেয়ে বা অসুস্থ হয়ে ফাইনাল খেলার পক্ষে আনফিট হয়ে পড়েন। ফলে পূর্ণ শক্তির দল ফাইনালে নামায়নি শ্রীলঙ্কা। রানাতুঙ্গা আরও বলেছেন, ‘আমার কাছে অনেক তথ্য প্রমাণ রয়েছে। সময় এলেই আমি তা প্রকাশ করব। আমি চাই শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে এজেন্টদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হোক। কোনও ক্রিকেটার এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে না, এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করুক বোর্ড।’

২০১১ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ওই দলের অধিনায়ক ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘২০০৯ সালে পাকিস্তান সফরে শ্রীলঙ্কা দলকে যেতে বাধ্য করেছিল কে? এর বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত?’ উল্লেখ্য, তখন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ২০০৯ সালের মার্চে পাক সফরে লাহোরে শ্রীলঙ্কা টিম বাসের উপর জঙ্গি হামলা হয়। হেলিকপ্টারে ক্রিকেটারদের কোনওরকমে উদ্ধার করে লাহোরের সেনা বেসক্যাম্প থেকে বিশেষ বিমানে কলম্বোয় ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনও আন্তর্জাতিক সিরিজ পাকিস্তানে আয়োজিত হয়নি।

অর্জুনা রানাতুঙ্গার এই অভিযোগ সম্পর্কে ভারতীয় ক্রিকেটাররা অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। ওই ম্যাচে ভারতের হয়ে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক গৌতম গম্ভীর বলেন, ‘আমি অর্জুনা রানাতুঙ্গার এই অসমর্থিত, অপ্রমাণিত অভিযোগ শুনে বিস্ময়ে থ বনে গিয়েছি। উনি একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। ওঁর উচিত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে পেশ করা।’ ভারতীয় দলের আর এক সদস্য আশিস নেহরা বলেন, ‘রানাতুঙ্গার এই অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিয়ে আমি ওকে গুরুত্ব দিতে চাই না। আমি যদি প্রশ্ন তুলি রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ে জল মেশানো ছিল, সেটা কি ওর শুনতে ভালো লাগবে?’

শচীন তেন্ডুলকর এই মুহূর্তে রয়েছেন লন্ডনে। তিনি এদিন সেন্টার কোর্টে উইম্বলডন সেমি-ফাইনাল দেখেন। সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করলে শচীন কোনও মন্তব্য অস্বীকার করেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ