spot_img

১৯ বছর পর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১১ জুলাই, ২০১৭ ।

 

 

 

 

 

সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিলো ইংল্যান্ড। এরপর প্রোটিয়াদের বিপক্ষে আর কোন টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ইংলিশরা। এ সময়ে তিন সিরিজে দু’টি দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী হয়েছে। বাকি একটি হয়েছে ড্র। তবে এবার সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছে তারা। লর্ডসে গতকাল প্রথম টেস্ট দাপটের সাথে জিতে যাওয়ায়, এখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে লর্ডসে অভিষেক হয় জো রুটের। নিজের অভিষেক ম্যাচে দু’হাত ভরে সাফল্য পেয়েছেন রুট। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট ২১১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নেন রুট। ব্যাটসম্যান ও অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করেছেন রুট, যা দলের জয়ের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম টেস্ট জয়ে সাহস বেড়ে গেছে ইংল্যান্ডের। তাই এখনই সিরিজ জয় নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে তারা। কারণ প্রায় ১৯ বছর হয়ে গেল দেশের মাটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে পারছে না ইংল্যান্ড। তবে এবার সেটি সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট।
প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ায় লর্ডস টেস্ট খেলতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়মিত অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস। তবে ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে দেখা যাবে ডু-প্লেসিসকে। এতে দল ফিরে পাবে হারানো আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পেসার কাগিসো রাবাদাকে ছাড়াই খেলতে নামতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের গালি দেয়ায় আইসিসির নিয়মনুযায়ী এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন রাবাদা।

প্রথম টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার হারের পেছনে ফিল্ডিং-এ ক্যাচ ফেলা এবং সঠিক সময়ে রিভিউ নিতে না পারাটা ও সঠিকভাবে ব্যবহারে ব্যর্থ হওয়াটা অন্যতম কারণ বটে। তাই লর্ডস টেস্টে প্রোটিয়াদের পারফরমেন্স ছিলো হতাশাজনক।
অন্যদিকে, ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং-এ শতভাগ উজাড় করে দিয়েছে ইংল্যান্ড। আর প্রথম টেস্টে দলকে দুর্দান্তভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন রুট। বোলারদের সঠিকভাবে পরিবর্তন করে ব্যবহার করেছেন তিনি। বিশেষভাবে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে মঈন আলীকে দ্রুত আক্রমণে এনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধসিয়ে দেয়াটা প্রশংসনীয়। লর্ডস টেস্টে ইংলিশদের স্পিনাররা ১৪ উইকেট শিকার করেছেন। এরমধ্যে ১০ উইকেট নিয়েছেন মঈন। প্রথম ইনিংসে ৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে লর্ডস টেস্টের সেরা খেলোয়াড় মঈন।

দ্বিতীয় টেস্টেও দক্ষিণ আফ্রিকার গলার কাটা হতে পারেন মঈন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের দুই পেসার জেমস এন্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড। কারণ ট্রেন্ট ব্রিজের অতীত রেকর্ড পেসারদের পক্ষে কথা বলছে।

ট্রেন্ট ব্রিজে আট টেস্টে ৫৩ উইকেট নিয়েছেন এন্ডারসন। এই ভেন্যুটি এন্ডারসনের জন্য লাকি গ্রাউন্ড বটে। প্রথম টেস্টে মাত্র ৩ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় টেস্টে নিজেকে মেলে ধরতে মরিয়া থাকবেন এন্ডারসন। আর এই ভেন্যুতে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ব্রড, যা এখনো আনন্দ দেয় ব্রডকে।

দ্বিতীয় টেস্টে দু’টি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। অফ-ফর্মে থাকা জেপি ডুমিনির জায়গায় দলে আসবেন ডু-প্লেসিস। আর রাবাদার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন ক্রিস মরিস বা ডোয়াইনি ওলিভারের মধ্যে যেকেউ।

আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ