spot_img

হোলি আর্টিজানে হামলার অস্ত্র নাসিরুল্লাহর হাতে তুলে দিয়েছিল ভারতে ধৃত জঙ্গী মুসা

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১০ জুলাই, ২০১৭ ।

 

 

 

 

 

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগ্নেয়াস্ত্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধৃত আইএস জঙ্গি মুসা তুলে দিয়েছিল হাতকাটা নাসিরুল্লাহ ওরফে সোহেল মাহফুজের হাতে। এমনকী জঙ্গি হানার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও সে এই আইএস জঙ্গির কাছ থেকে পেয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। মুসার মাধ্যমেই নব্য জেএমবি’র এই জঙ্গী বাংলাদেশ থেকে ভারতে সংগঠনের কর্তৃত্ব নিজের কবজায় রেখেছিল। ধৃতকে জেরা করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হাতে। যা প্রাথমিকভাবে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছে বলে খবর।

নব্য জেএমবি’র এই সদস্য মালদহ সীমান্ত দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল মুসার মাধ্যমে। তবে মুসা ধরা পড়ার পর সীমান্তে বসেই সংগঠনের কাজকর্ম দেখভাল শুরু করে খাগড়াগড়কাণ্ডের অন্যতম এই অভিযুক্ত। তা থেকে ভারতের এনআইএ কর্তাদের ধারণা, মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় নব্য জেএমবি’র জঙ্গিরা এখনও সক্রিয়।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে অভিযুক্ত হাতকাটা নাসিরুল্লাহ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত ছেড়ে পালিয়ে যায়। সংগঠনে ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়াতেই সে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়। বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সময় এপার বাংলায় অস্ত্রসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ নিতে আসে মুসা। আইএসের বাংলভাষী ইউনিট এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। সেখানে হাজির ছিল নব্য জেএমবির বেশ কয়েকজন সদস্যও। আইএসের বাংলাভাষী ইউনিট ও নব্য জেএমবি দু’জনেরই কাছে বাংলা ছিল অন্যতম টার্গেট।

ওপারে সংগঠন বিস্তার ও জেহাদি নিয়োগ ছিল অন্যতম লক্ষ্য। ওই শিবিরেই দেখা হয় মুসা ও নাসিরুল্লাহর। সংগঠনের এক শীর্ষ নেতাই তাদের আলাপ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, মুসা আইএসের বাংলভাষী উইংয়ের কাজ করার পাশাপাশি নব্য জেএমবির হয়েও কাজ করবে। যেহেতু ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে হাতকাটা নাসিরুল্লাহর, তাই সংগঠনের তরফে বলা হয়, দুই নেতা যেন একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে। পুরানো জেএমবির হয়ে যারা কাজ করছে, তাদের নাসিরুল্লাহ মারফত দলে টানবে মুসা। সেইমতো কাজ শুরু হয়।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশে পালিয়ে পালিয়ে থাকলেও, নাসিরুল্লাহ মালদহের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় গিয়ে মুসার সঙ্গে একাধিকবার গোপনে বৈঠক করেছে। পুলিশের নজর এড়াতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট এবং ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। খাগড়াগড়কাণ্ডের পর মুসা ও হাতকাটা নাসিরুল্লাহ পশ্চিমবঙ্গে নব্য জেএমবিকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করায়।

সূত্রের খবর, এখনও এই সংগঠনের হয়ে কাজ করছে কয়েক হাজার যুবক। নব্য জেএমবি’র সদস্যদের তৈরি বিস্ফোরক আইএস জঙ্গি মুসার মাধ্যমে নাসিরুল্লাহর হাতে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জাল নোট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ ব্যাবসার মাধ্যমে যে টাকা আসত মুসার কাছে, তা সে নব্য জেএমবির সদস্য খাগড়াগড়ের অভিযুক্তের কাছে পাঠিয়েছে।

গুলশান হামলার পরিকল্পনার সময় দু’জনেই হাজির ছিল। হাতকাটা নাসিরুল্লাহকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও টাকাপয়সা জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই সে মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানা গিয়েছে, মুসা হাতকাটা নাসিরুল্লাহকে অস্ত্র পাঠায়। যা মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে তার হাতে গিয়েছিল বলে খবর। বেশ কয়েক দফায় এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসা হয়। এরপর মুসার কাছ থেকে টাকাপয়সাও নিয়ে যায় নাসিরুল্লাহ। ওই টাকায় বিস্ফোরক কেনা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।

নাসিরুল্লাহকে হাতে পেতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন ভারতের এনআইএ আধিকারিকরা। দিল্লি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলেই তাঁরা জেরার জন্য আসবেন  বাংলাদেশে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ