মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ, জনতারআদালত.কম । ২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে দারোগা ইসহাকের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে হরিণাকুন্ডুবাসী। আসামী কেনা বেঁচা, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে দালালদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া ও বেপরোয়া গণগ্রেফতার বানিজ্যসহ নানা অভিযোগ ইসহাক দারোগার বিরুদ্ধে। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে জামায়াত-বিএনপি ছাড়াও সরকারী দল আওয়ামীলীগও এই দারোগার কর্মকান্ডে চরমভাবে নাখোশ। গ্রাম থেকে নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে অর্থ বানিজ্য করেন তিনি। হরিণাকুন্ডু থানা যেন আসামী কেনাবেচার হাটে পরিনত হয়েছে। রাতে আটক, সকালে মুক্তি। টাকা না দিলে ক্রস ফায়ারের হুমকি অথবা জামায়াত-শিবির কর্মী সাজিয়ে কোর্টে চালান দেন এ দারোগা। হাতবদল হচ্ছে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন জেলা পুলিশ প্রশাসন। তবে পেরে উঠেন নি।
উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে সব শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে পুলিশের দারোগা ইসহাক আতংক চরমে বিরাজ করছে। বিএনপি’র নেতা কর্মিরা অসহায়, সরকারী দলের স্থানীয় নেতারাও ক্ষুব্ধ। এছাড়াও হয়রানী মুলক মামলা দায়ের করে দারোগা ইসহাক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। হরিণাকুন্ডুতে কিনেছেন দু’ প্লটে ২ বিঘা জমি। উপজেলার চারাতলা বাজারে রয়েছে তার দোকান। নারায়নকান্দি গ্রামের বালি বিক্রেতা আক্তার মেম্বরের কাছ থেকে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা আদায় করেন। আইও না হয়েও নৌকা পোড়ানো মামলায় ২২ জনকে ধরে চালান দিয়েছেন তিনি। বাকি আসামীদের কাছ থেকে আদায় করেছেন দাবিকৃত টাকা। বাল্য বিবাহতে সহযোগিতা করা, গাছকাটসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে আলোচিত এ দারোগার বিরুদ্ধে। কমিউিনিটি পুলিশিং ডে’র অনুষ্ঠানে তিনি ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সূত্র আরো জানায়, তিনি যশোরে সরকারী খাস জমিতে বাড়ি নির্মান করেছেন। সম্প্রতি তিনি উপজেলার তৈলটুপি গ্রামের ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। অভিযোগের অন্ত নেই এ দারোগার বিরুদ্ধে। নগদ টাকা পয়সার কোন হিসাব নেই এ আলোচিত দারোগা ইসহাকের। বেপরোয়া গ্রেফতার বানিজ্যের থাবা থেকে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরাও রক্ষা পাননি। উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রিপন, জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের আসমান আলীসহ অসংখ্য ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ বানিজ্য করা হয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার নজির রয়েছে এ দারোগা ইসহাক আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে রামচন্দ্রপুর গ্রামের রিপনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন দারোগা ইসহাক।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা বিএনপি’র এক নেতা বলেছেন চার হাজার বিএনপি’র নেতা কর্মির বিরুদ্ধে ২২ টি মামলা দায়ের করা হলেও এখন মামলা আছে ১৩টির মত। প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৩ মার্চ হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদ চত্তরে জামায়াত-শিবিরের ডাকা ধর্মঘটের দিনে নির্মম ভাবে নিহত হন সোনাতনপুর পুলিশ ফাড়ির কনস্টেবল গাজী ওমর ফারুক। ওই দিন পরিষদ ভবন এলাকায় তান্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরের শত শত নেতা কর্মি। এ ঘটনার পরে হত্যাকে পুজি করে বেপরোয়া অর্থ বানিজ্য শুরু করে পুলিশের এ দারোগা। কনস্টেবল ওমর ফারুক হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা মোতাহার হোসাইনসহ দুই শতাধিকের বেশী মানুষের নামে চার্জশীট দেয়া হয়। গ্রেফতার আতংকে থাকা সাধারন মানুষ এরপর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়। কিন্তু না আজো চলছে গ্রেফতার বানিজ্য।
এএসআই ইসহাক আলী ২০১৪ সালে হরিণাকুন্ডু থানায় যোগদানের পর থেকেই শুরু করেন রমরমা গ্রেফতার বানিজ্য। কথিত আছে হরিণাকুন্ডু থানার আলোচিত এ দারোগা চার বছরে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নামে-বেনামে রয়েছে তার অঢেল সম্পত্তি। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে তার নিজস্ব দালাল নিয়োগ রযেছে। এই দালালরাই ধরিয়ে দেন গ্রামের নিরীহ মানুষদের। সাধারণ মানুষদের বিএনপি-জামায়াত বানিয়ে প্রচার করা হয়। এমনকি আওয়ামীলীগ পরিবারের মানুষও এ দারোগার অত্যাচার ও হয়রানী থেকে রেহায় পায়নি। উপজেলার গ্রামে গ্রামে বোবা কান্না আর আর্তনাতে মানুষের বুক ভেঙ্গে গেছে। আর্থিক ভাবে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। গোটা হরিণাকুন্ডু জুড়েই গ্রেফতার বানিজ্য করছেন দারোগা ইসহাক। ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায়না এ দারোগার বিরুদ্ধে। এএসআই থেকে প্রমোশন পেয়ে এ দারোগা হরিণাকুন্ডু উপজেলায় রাম-রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তিনি। এক নাগাড়ে চার বছর হরিণাকুন্ডু থানায় থাকায় তিনি বসতি হয়ে উঠেছেন।
সাধারন মানুষের ঘুম তিনি হারাম করে দিয়েছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে উপজেলার সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভোর থেকেই সাধারন মানুষ আটকে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন। বিশেষ একটি সুত্রে জানা গেছে, দারোগা ইসহাকের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ পুলিশের একাধিক শাখায় জমা পড়েছে। সে সব বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে খুব দ্রুত। অভিযোগে দারোগা কার কাছ থেকে কত অংকের টাকার ঘুষ নিয়েছেন তার ফিরিস্তি রয়েছে। তবে দারোগা ইসহাক তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ সব অপপ্রচার জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন। আমার বিরুদ্ধে পুলিশ না কি পাবলিক এধরনের অপপ্রচার ছড়াচ্ছে তা আমি বলতে পারিনা। মানুষ ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেন। হরিণাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম শওকত হোসেন বলেন, এসআই ইসাহক এএসআই ও এসআই পিরিয়ড মিলে সর্বমোট ২ বছরের মত হরিণাকুন্ডু থানায় রয়েছেন।


























