spot_img

” সু-শীল সমাজ ” সমাচার !

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক ,

জনতারআদালত.কম । ১১ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

বিএনপি-র সাবেক নেতা ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার মতে ” সু-শীল ” সমাজের অর্থ ” ভাল নাপিত ” এর সমাজ ।

এই সমাজ শুধু একটা কাজই ভালো জানেন । কিন্তু আমাদের দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ দেশে নির্বাচন আসলেই তৎপর হয়ে উঠেন । চারদিকে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন । বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাসে দেন-দরবারে ব্যস্ত থাকেন ব্যক্তিস্বার্থ বা গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য। কেহ কেহ নতুন স্যুট-কোট তৈরী করেন, নতুন মডেলের গাড়ী ক্রয় করেন , বড় বড় হোটেলে মেহমানদারী করান, বিভিন্ন পার্টি দেন ।

আবার এই সুশীল সমাজ বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন ভাবে তদবীর করে থাকেন । কেন জানেন ?

৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা যে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি, তাহা গাড়ীতে লাগিয়ে কয়েক মাস রাজত্ব করতে । কোন কোন সময় ২/১ বছরও থেকে যায় এরা । বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়ে যায় শত শত কোটি টাকা । এরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মানুষকে নিষ্পেশিত করে । শোষণ ও নির্যাতন চালিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে লুটপাট করে । হাব-ভাবটা যেন রাজা-বাদশার মতো ।  মনে হয় তারাই যেন দেশের দণ্ডমুণ্ডের মালিক।

তারা মনে করে তাদের কথাই সারা জাতি শুনে এবং প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। যদিও বাস্তবে এদের কেও নিজ এলাকা থেকে জনগণের ভোটে মেম্বারও হতে পারে না । কারণ, এই সুশীল সমাজ মানুষকে ভালোবাসে না, এরা কোন রাজনীতি করে না । শুধু বুঝে ধান্দাবাজী ।

সামনে আসছে নির্বাচন । আবারও সু-শীল সমাজ বরাবরের মতো সমস্ত প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে । ইদানিং তারা মাননীয় নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাত করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নানা রকম ফর্মুলা দেয়া শুরু করেছে। তারা নাকি আবারও প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী নামানোর জন্য ।  সেনাবাহিনী না নামালে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না (!) ।

সু-শীল সমাজের পন্ডিত ভাইয়েরা , ১৯৯১ সালের নির্বাচন দেখেছি । সেনাবাহিনী নির্বাচনের মাঠে ছিলো, সে নির্বাচনে একদল হেরেছে এবং আরেক দল জয় লাভ করেছে । আমরা দেখেছি নির্বাচনে হেরেই রাজনৈতিক দলটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলো । সেই নির্বাচনে হয়েছিলোও তাই । বাংলার জনতা সেদিন দেখেছিলো বিশেষ একদলের মার্কা বুকে লাগানো ভোটার দেখলেই তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয় নাই । ফলে আমাদের দেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে টেনে সেদিন কলংকিত করা হয়েছিলো ।

আবার ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হেরেও সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করা হয়েছিলো । নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে , যার ফলে দেশ-বিদেশে সেনাবাহিনীর ভাব-মূর্তিকে বিতর্কিত করা হয়েছে । আবারও ২০০১ সালে প্রতিবারের মতো সু-শীল সমাজের পন্ডিত ভাইদের তদবীরে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, আমাদের গর্ব সেনাবাহিনীকে ব্যাপকভাবে গদী রক্ষার স্বার্থে নির্বাচনকালীন সময়ে শুধু ব্যবহারই করেন নাই, অপব্যবহারও করেছেন ব্যানা হুদার ” সু-শীল ” সমাজের পন্ডিত ভাইয়েরা ।

২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সময়ে দেশে ব্যাপক অরাজকতা, লুটপাট, হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন, নারী-শিশু নির্যাতন করা হয়েছে । তখন কিন্তু এই  ” সু-শীল ” সমাজের ভাইয়েরা ‘ টু ‘ শব্দটি পর্যন্ত করেন নাই ।

আবার ২০০৬ সালে ” সু-শীল ” সমাজের প্রত্যক্ষ তদবীরে নির্বাচনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নিয়ম-নীতি লংঘন করে বিএনপি-কে ক্ষমতায় রাখার জন্য নিজেরাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সেজে সিংহাসনে বসেছেন । কিন্তু বিধিবাম, বাংলার জনগণ তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যার আহবানে সাড়া দিয়ে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেন ।

এবার আরেক খেলা । আমাদের গর্বের ধন সেনাবাহিনী ও পশ্চিমা শক্তিকে ঢাল হিসেবে রেখে ব্যানা হুদার মতে ” সু-শীল ” সমাজের স্বার্থপর, লোভী, দেশদ্রোহী পন্ডিত ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে বাংলার সিংহাসন দখল করে লাল-সবুজের পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে বাংলাকে শাসন-শোসন করতে উঠেপড়ে লেগে গেলো।

কিন্তু, আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, বিশ্ব শান্তির রক্ষা-কবজ, আমাদের গর্বের ধন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষমতালোভী তথাকথিত সু-শীল সমাজের উপদেষ্টাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিলেন দেশের জনগণ ও বিশ্ব-দরবারের কাছে ।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সু-শীলদের আসল কলঙ্কজনক উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে ভন্ড, ক্ষমতালোভী উপদেষ্টাদের দিয়েই একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করালেন । যে নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিলো । নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দেশ-বিদেশের সকল পর্যবেক্ষক মতামত দিয়েছেন ।

 

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনের রায় মেনে নিয়েছেন । এবং এই নির্বাচনেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেন। আর সরকার প্রধান নির্বাচিত হন জননেত্রী শেখ হাসিনা ।

পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে সেনাবাহিনী দ্বারা নির্বাচনী কাজ করানো হয় না । কারণ, এই বাহিনীর কাজ হলো দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, এমনকি সু-শীলদের পেয়ারী পাকিস্তানেও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় না । বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও নেই সেনাবাহিনী দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা করার কথা । সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ও কর্তব্য ।

পরিশেষে বলতে চাই , ” যার কাজ তারই সাঁজে, অন্যের ঢোল খামাখাই বাজে ” । অর্থাৎ, দেশ চলে সংবিধান অনুযায়ী , দেশের নির্বাচনও হবে সংবিধান প্রণীত আইন অনুযায়ী । তাঁর ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করবেন নির্বাচন কমিশন , সহায়তা করবেন বাংলাদেশের সাংবিধানিক সরকার , অর্থাৎ  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ।

তাই, ব্যানা হুদার মতে সু-শীল সমাজের পন্ডিত ভাইদের আবারও জানাতে চাই, অযথা আপনাদের ‘পেশা’র যন্ত্রটি নিয়ে অহেতুক দৌড়াদৌড়ি করে বাংলার জনগণকে আর আহত করবেন না । পরিণামে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুক্তিকামী জনতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা আপনাদের অবশ্যই দেশ মাতৃকার কল্যাণে শুধুমাত্র প্রতিরোধই করবেনা , প্রয়োজনে বিতাড়িতও করবে ।

তাই বাংলার চিরশত্রু পাকিস্তান ও তাদের এ দেশীয় দালাল এবং পশ্চিমা শক্তির সহায়তায় কোনরুপ ধ্বংসাত্মক চক্রান্তে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকুন । কারণ, প্রতিরোধে জেগে আছে বাংলার সচেতন জনগণ এবং সাথে আছে জনতার আদালত

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ