ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ৪ আগষ্ট, ২০১৭ ।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল নজরুল কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী ঘুষ ছাড়া বেতনের চেকে স্বাক্ষর করেন না। মাদানী আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। তিনি ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যও (এমপি)।
সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে শিক্ষক-কর্মচারীরা সভা ডেকে সভাপতিকে ঘুষ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ মে মাদানী সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। এরপর থেকে তিনি কলেজের বিভিন্ন তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করার চেকে স্বাক্ষরের জন্য টাকা দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মে কলেজের ৪৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী এক জরুরি সভা ডাকেন।
সভাপতিকে ঘুষ দিয়ে বেতন উত্তোলন করবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেন। এ সভার মন্তব্য বই সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এ তিন মাসের জন্য সভাপতি এক লাখ টাকা ঘুষ নেন। এরপর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে চেক আটকে ফের এক লাখ টাকা নেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। মাত্র এক বছরে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ায় ওই সভায় উপস্থিত সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয় যে, শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনোভাবেই আর ঘুষ দেবেন না। এতে যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সবাই মিলে তা মোকাবেলা করবেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সভাপতি মাদানী শিক্ষক-কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি করেন। এমনকি স্বার্থে আঘাত লাগায় কলেজটি সরকারীকরণের ক্ষেত্রে তিনি জটিলতা সৃষ্টি করেন। এ অবস্থায় অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেন। সেখানে মাদানীর বিরুদ্ধে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। গত ১৮ জুলাই স্বাক্ষরিত এ চিঠিটি ঢাকায় পাঠানো হয়। কলেজ পরিচালনা পরিষদের ৯ জন সদস্য একই অভিযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পাঠান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, সভাপতির ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি এখনো সমস্যা করে চলেছেন। গত মাসের বিলে তিনি স্বাক্ষর করতে গিয়ে কর্মচারীদের হয়রানিতে ফেলেন।
অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান বলেন, ‘সভাপতির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সবার পক্ষে ঢাকায় লিখিতভাবে বিষয়গুলো জানিয়েছি। তবে এখনো এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ’
কলেজের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য মাওলানা হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বলেন, ‘যারা অভিযোগ এনেছে তাদের বিরুদ্ধে আমার অনেক অভিযোগ আছে। ’ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষরের সময় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ


























