মোঃ কামাল হোসেন, ময়মনসিংহ , জনতারআদালত.কম । ২২ নভেম্বর, ২০১৭ ।

সশস্ত্র বাহিনী ও সদ্য পদত্যাগী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রকাশ করায় অন লাইন পোর্টাল ত্রিশাল নিউজ ডট কম নামের প্রকাশক ও বার্তা সম্পাদককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি পুলিশ) তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ ধারায় ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, গত ১৬ নভেম্বর ২০১৭ইং তারিখে অন লাইন পোর্টাল ত্রিশাল নিউজ ডটকম নামের পত্রিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও সদ্য পদত্যগী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ নিয়ে স্বজনদের আটক করে মেরে ফেলার হুমকী সিনহার পদত্যাগ শিরোনামে একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করায় অনলাইন পোর্টাল ত্রিশাল নিউজ ডটকম এর প্রকাশক মোঃ লায়েস মন্ডল (২৬) পিতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাং- কোনাবাড়ী, উপজেলা- ত্রিশাল এবং বার্তা সম্পাদক মোঃ ছাবিদ (২০) পিতা- শামসুদ্দিন, সাং- বাগান, উপজেলা- ত্রিশালকে সোমবার রাতে ত্রিশাল সদর থেকে আটক করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম আরো জানান- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পোর্টালের অন্যতম এ্যাডমিন লায়েস এই সংবাদটি তাদের আইডি হতে অনলাইন পোর্টাল ত্রিশাল নিউজ ডটকম এ প্রকাশ করা হয়েছে মর্মে স্বীকার করেছে। প্রকাশিত সংবাদটিতে সদ্য পদত্যাগী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং বাংলাদশ সেনাবাহিনীর অফিসার, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধান বিচারপতির পরিবারবর্গ এবং সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। যা সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশৃংখলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র। ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা নি:সন্দেহে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ত্রিশাল থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে।
পত্রিকাটির সম্পাদক সহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে এমন তথ্য জানান ডিবির ওসি আশিকুর রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেকে বলেন- ত্রিশালের সাংবাদিকদের সিংহ ভাগই কট্টরপন্থী জামায়াত-বি.এন.পির হওয়ায় তাদের রহস্যময় কার্যক্রম সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী । গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে তাদের অতীত ও বর্তমান কাজকর্মের খোঁজ নিলে অনেক অজানা রহস্যের উন্মোচন ঘটবে। প্রশাসনের সাথে মিশে তাদের কাজ হাসিলের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে আরো শক্তিশালী হয়ে এরা রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের মদদ দিয়ে যাচ্ছে। এদের কেউ তাদের কৃতকর্মে পুলিশ/গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও প্রশাসনের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় তয়-তদবিরের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়। এতে তাদের ক্ষমতার বর্হি প্রকাশ ঘটায়।
উল্লেখ্য-অতীতের যেকোন সরকার আমলের চাইতেও এরা অধিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছে। সচেতন মহল মনে করেন- গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে সরকার এবং রাষ্ট্র উভয়েই ঝুঁকিপূর্ণ।


























