spot_img

সব বাধা মোকাবিলা করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গবেষণাই আমাদের সাফল্য এনে দিতে পারে—সেটা এখন প্রমাণিত। গবেষণার জন্য আমিষ ও খাদ্য উৎপাদনে সফল হয়েছি।’

বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ কোন ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকবে না। গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা এমন জনগোষ্ঠি গড়ে তুলব যারা হবে প্রযুক্তি বান্ধব স্মার্ট জনগোষ্ঠি। দেশকে এগিয়ে নিতে আরও বিজ্ঞানী দরকার । আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি যার ভিত্তি বঙ্গবন্ধুই স্থাপন করে যান। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙামাটির বেতবুনিয়াতে তিনি দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষি গবেষণা চলছে, বিজ্ঞানেও চলছে কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণাটা খুব সীমিত, খুবই কম। আমাদের যারা ডাক্তার হন, তারা পুলিশের চাকরিতে চলে যান বা রাজনীতিবিদ হয়ে যান। তারা ডাক্তারিও করেন না, গবেষণাও করেন না। আর এক শ্রেণি আছে তারা শুধু টাকা কামাই করতেই ব্যস্ত। সরকারি চাকরিও করবেন আবার প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করবেন। সরকারি চাকরি আর প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করলে সেখানে গবেষণা হয় না।

স্বাস্থ্য সেক্টরে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সেক্টরে গবেষণাটা খুব দরকার। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা খুবই সীমিত কয়েকজন করেন। এটা যেন আরও প্রসারিত হয় সেজন্য সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা এদেশের মানুষের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময়ে প্রাণ হারান আমার পরিবারের ১৮ জন সদস্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সমুদ্রসীমায় আমাদের যে অধিকার সে বিষয়ে কাজ শুরু করি। মাত্র ৫ বছরে আমরা সে কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি। কিন্তু পরেরবার ক্ষমতায় এসে আমরা সে অধিকার বুঝে নিয়েছি। জাতির পিতা শুধু করেই দিয়ে যাননি, আমাদের জন্য সবকিছুর ভিত্তি প্রস্তর করে গেছেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, একটা সময়ে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম ছিল। কিন্তু একটা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও গবেষণা কতটা জরুরি তা আমরা উপলব্ধি করি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। শুধু নিজের দেশে নয়, বিদেশ থেকে জ্ঞান আহরণ করে দেশের উন্নয়নেও যেন ভূমিকা রাখতে পারে সে ব্যবস্থাও করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আমাদের বাধাপ্রাপ্ত হতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে সারা দেশের মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। সব বাধা মোকাবিলা করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেটাকে মোকাবিলা করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরাই প্রথম ২০০৯ সালে আলাদা ট্রাস্ট ফান্ড করেছি এবং কী কী প্রজেক্ট নিতে হবে সেগুলো শুরু করি।’

তিনি আরও বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারছে।

গবেষণায় আরো আন্তরিক হওয়ার জন্য তরুণ গবেষকদের প্রতি আহবান জানান তিনি। কৃষি ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ