spot_img

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী সিম ব্যবহার করতে পারবে না

ডেস্ক রিপোর্ট,  জনতারআদালত.কম । ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশী অপারেটরদের সিম ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানাচ্ছে সরকার।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে আজ বলা হয়, কিছু বাংলাদেশী নিজেদের বায়োম্যাট্রিক তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধিত সিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিক্রি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সিম ব্যবহার বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে দেশে ফেলে আসা আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলতে পারেন সেজন্য আশ্রয় শিবিরগুলোতে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কিছু ফোন বুথ স্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের সিম চালু করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বায়োম্যাট্রিক তথ্য দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে সিম কিনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসছেন। এধরনের নিবন্ধিত সিমসহ কয়েকজনকে আটকও করেছে স্থানীয় পুলিশ।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কিছু মানুষ নিজেদের বায়োম্যাট্রিক তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধিত সিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিক্রি করছেন। যেসব বিক্রেতারা এধরণের সিম বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের সিম ব্যবহার বন্ধে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্যও চিঠি দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি না করার জন্য মোবাইল অপারেটরদেরও সতর্ক করে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়, তবে ঠিক কী ধরণের নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হতে পারে এবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথেও বৈঠক করেন টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তারা।

কক্সবাজারে স্থানীয়রা বলছেন, বিভিন্ন বাজারে বা দোকানপাটে এতদিন বেশ প্রকাশ্যেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে মোবাইল সিম বিক্রি হয়ে আসছে।

কক্সবাজারের পুলিশ বলছে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গারা অপরাধ করছেন এমন সরাসরি কোন তথ্য তারা পাননি। তবে শঙ্কা রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন চার লাখেরও বেশি শরণার্থী        মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন চার লাখেরও বেশি শরণার্থী

কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুর বলছিলেন, মূলত: বাংলাদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলার জন্যই এসব সিম কিনছেন রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশে বিদেশী কোন ব্যক্তি মোবাইল সিম কিনতে গেলে তাদের নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে পাসপোর্টের কপি দিয়ে সিম সংগ্রহ করতে হয়। সেটিও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে সেধরনের কোন পরিচয়পত্র না থাকায় তাদের তথ্য-প্রমাণসহ সিম নিবন্ধন করারও সুযোগ নেই।

ফলে আপাত: ব্যবস্থা হিসেবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে টেলিটকের কিছু ফোন বুথ বসানো হবে বলে জানান তারানা হালিম। রোহিঙ্গা শিবির এলাকাগুলোতে আগামী তিন দিনের মধ্যে টুজি সেবার আওতায় আনার জন্যও টেলিটককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বর্তমানে যে বায়োম্যাট্রিক নিবন্ধন করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে পরবর্তীতে তাদের মোবাইল সিম কেনার সুযোগ দেয়া হতে পারে। তবে সেটি তখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ