spot_img

রোহিঙ্গাদের ঘরে ফিরিয়ে নিন: কফি আনান

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নয়, ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের পর এক অনানুষ্ঠানিক আলাপে মিয়ানমার সরকারের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে কফি আনান তার বক্তব্যে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশকৃত ‘অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট’ এর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। রাখাইন প্রদেশের জনগণের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও চলমান সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার তার কমিশন প্রণীত রিপোর্টের সুপারিশমালার আশু বাস্তবায়ন করবে মর্মে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কফি আনান রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কফি আনান তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে। কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন ‘এই ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের জনগণের কল্যাণে মিয়ানমার সরকার রাখাইন জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যমত্য হয়ে কাজ না করে।’

আনান বলেন, রাখাইন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যে ‘রোডম্যাপ’ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা বাস্তবায়নে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এই সংকট সমাধানে ব্যর্থতা শুধু মিয়ানমার ও তার প্রতিবেশীদের জন্য নয়; এর বাইরেও সংকট দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার তৈরি করতে পারে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কফি আনান জানান, কমিশনের সুপারিশের বাইরে কোনো বিকল্প প্রস্তাব তাঁর নেই। সবাই সম্মিলিতভাবে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাব কফি আনান জানান, তিনি যত দূর জানেন, সহিংসতা থেমে এসেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। তিনি বলেন, এ কথার অবশ্য এই অর্থ নয় যে নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করা হলে কোনো ব্যক্তি বা দল আবার সহিংস পথে যাবে না।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বক্তব্য দেন। প্রথম আলোর সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত মোমেন বৈঠকের ফলাফলে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্ট মতৈক্য রয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব যে রূপরেখা দেন, কফি আনান তাতে সমর্থন দেন। রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, সংকটের নিষ্পত্তি খুব সহজেই হবে বলে মনে হয় না। তবে তাঁরা সঠিক পথেই চলছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ