রাজশাহী ব্যুরো , জনতারআদালত.কম , ৬ আগষ্ট, ২০১৭ ।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেশের ৩০০ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রাথমিক একটি তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি।
এক সময় বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় দলটির। এর কারণ হিসেবে বিএনপি নেতারা বেশির ভাগ নেতার দুর্নীতি মামলায় জড়িয়ে পড়াকে দেখছেন।
গ্রেফতার এড়াতে ছিলেন পলাতক ও আত্মগোপনে। এছাড়া ছিলেন ইমেজ সংকটে। কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটও সংগঠিত হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গে বিএনপি আসনভিত্তিক জরিপ করছে। জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এলাকায় কার কতোটা জনপ্রিয়তা আছে তা যাঁচাই করা হচ্ছে।
বিপদে কর্মীদের পাশে কে থাকছেন, তাও দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীর দলীয় অবস্থান কেমন সেটাও দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সম্পর্কেও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে বিএনপি।
বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলটি গত নির্বাচন বর্জন করছিলো । তবে, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে দলটি । যার ধারাবাহিকতায় নিজস্ব গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ৩০০ সংসদীয় আসনের একটি প্রাথমিক তালিকাটি তৈরি করেছে বিএনপি ।
এই প্রাথমিক তালিকা নিয়েই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে আছেন দলটির ভবিষ্যত কান্ডারী তারেক জিয়ার বাসায় ।
সেখানেই বিএনপির কিছু জোষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকাটি বলে মনে করছেন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ । যোগ্য প্রার্থীদেরই দল মনোনয়ন দেবে বলে জানান তারা।
বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন-
সিরাজগঞ্জ জেলা :
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ): উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সদস্য টিএম তহজিবুল এনাম তুষার ও কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদরের একাংশ ও কামারখন্দ): দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অথবা তার সহধর্মিনী ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ): সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিশির, তাড়াশ উপজেলা বিএনপি নেতা খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা চেয়ারম্যান আইনুল হক ও ঢাকা আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাড. গোলাম মোস্তফা।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া): সাবেক এমপি এম. আকবর আলী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাজী কামাল, নারী নেত্রী অ্যাড. সিমকী ইমাম, যুবদলের সদস্য আব্দুল ওয়াহাব, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কে.এম. শরফউদ্দিন মঞ্জু ও থানা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী): দলের সহ-প্রচার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, রাকিবুল করিম পাপ্পু , সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের ও চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মামুন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর): এ আসনে থেকে সাবেক এমপি কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ডা. এম.এ. মতিনের ছেলে চিকিৎসক এম.এ মুহিত।
নওগাঁ জেলা :
নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা ও নিয়ামতপুর): সাবেক এমপি নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. সালেক চৌধুরী, নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাপাহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর নুর।
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা): সাবেক এমপি বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা খান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী): সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আকতার হামিদ সিদ্দিকী, বদলগাছী উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল ।
নওগাঁ-৪ (মান্দা): সাবেক এমপি মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম প্রামানিক, নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ডা. একরামুল বারী টিপু , সহ-সভাপতি আলম চৌধুরী ।
নওগাঁ-৫ (সদর): জেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হক সনি ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই): বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ খান ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বুলু।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ): জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট): ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফী পাপিয়া।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ।
জয়পুরহাট জেলা :
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা): সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান , অধ্যক্ষ শামসুল হক ।
জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলার ও কালাই): সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, আরিফ ইফতেখার আহমেদ ও যুগ্মসম্পাদক আলী হাসান মুক্তা।
বগুড়া জেলা :
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দী ও সোনাতলা): বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শোকরানা, সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম রফিক ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাকির হোসেন ।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মীর শাহ আলম, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম আর ইসলাম স্বাধীন।
বগুড়া-৩ (আদমদিঘী-দুপচাঁচিয়া): বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা, বগুড়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক হিরু।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম): বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল, জেলার সহ-সভাপতি অ্যাড. রাফি পান্না ও জেলার সদস্য মোশাররফ হোসেন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট): বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান হারিস , তৌহিদুল আলম মামুন ও সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ।
বগুড়া-৬ (সদর): বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর): বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্ত্রী ডা.জোবায়দা রহমান ঝুনু , খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান তালুকদার।
পাবনা জেলা :
পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়ার আংশিক): সাবেক এমপি মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ , তাঁতি দলের সহ-সভাপতি ইউনুস আলী ।
পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার আংশিক): সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, অ্যাবের মহাসচিব হাসান জাফির তুহিন ও আব্দুল হালিম সাজ্জাদ।
পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর): সাবেক সাংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ফখরুল আযম ও প্রফেসর বয়েন উদ্দিন মিয়া ।
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া): চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার, ইশ্বরদী থানা বিএনপির সভাপতি সামশুদ্দিন মালিথা।
পাবনা-৫ (সদর): বিএনপি চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
নাটোর জেলা :
নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া): বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা নয়ন ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু।
নাটোর-২ (সদর): জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু অথবা তার স্ত্রী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন।
নাটোর-৩ (সিংড়া): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি কাজী গোলাম মোরশেদ ও সিংড়া পৌর বিএনপির সভাপতি শামিম আল রাজী ।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম): রুহুল ককুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ও স্থানীয় নেতা আ. আজিজ।
রাজশাহী জেলা :
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী): সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সচিব জহুরুল ইসলাম , যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন শাহীন ও জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান মারকনি।
রাজশাহী-২ (রাসিক): সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কামরুল মনির, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক আব্দুল গফুর ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর): সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা, সাবেক এমপি আবদুস ছাত্তার মন্ডল, জেলার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মন্ডল ও পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জুম্মা ।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ, বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ।


























