spot_img

ময়মনসিংহ সদর আসনের সাবেক এমপি ইমান আলী হত্যাকান্ডের বিচার এখন সময়ের দাবী

আব্দুল কাদের চৌধুরী, ময়মনসিংহ ,

জনতারআদালত.কম । ২০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

মরহুম ইমান আলী এমপি, ময়মনসিংহ সদর

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙ্গালী জাতি দীর্ঘ নয়মাস মুক্তিযুদ্ধ করে পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর, দালাল, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতার বিজয় অর্জন করেন।

বাঙ্গালী জাতির এ মহান বিজয়কে ধ্বংস করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী এবং অতিবিপ্লবী গোষ্ঠী মিলে গঠন করে “সিরাজ-শিকদার” নামের একটি সর্বহারা পার্টি।

যারা স্বাধীনতার সুফল ধ্বংস করার লক্ষ্যে সারা ময়মনসিংহে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকে। সিরাজ-শিকদার পার্টি (সর্বহারা) পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি লুট করে অস্ত্র কেড়ে নেয়। ব্যাংক ও খাদ্য-যোগান লুট করে। রেলওয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শতশত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের উপর চালায় হত্যাযজ্ঞ ও নানা রকম নির্যাতন। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে আগুণ দেয় ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি, পুলিশও রাতে থানা থেকে বের হতে ভয় পেত। থানায়-থানায় বাঙ্কার করে থাকতো।

ঠিক এভাবেই এক সময়, ময়মনসিংহের জনদরদি প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা, ময়মনসিংহ সদরের সংসদ সদস্য এডভোকেট ইমান আলীকে তারা ১৯৭৪ সালের ৩০শে জুলাই গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার বিবরণে ইমান আলীর মেয়ে আশা আমাদের রিপোর্টারকে তার মা ও ভাইদের বরাত দিয়ে জানান, ১৯৭৪ সালের ৩০শে জুলাই মঙ্গলবার তার বাবা সংসদসদস্য এডভোকেট ইমান আলী সন্ধ্যায় তাদের গ্রামের বাড়ি- শহরতলী, চূরখাই থেকে ময়মনসিংহ শহরের “মৃত্যুঞ্জয় স্কুল” রোডের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন।

তখন, কতিপয় সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারী শিকারিকান্দা রাস্তা অবরোধ করে দাঁড়ায় এবং রিক্সা থেকে ইমান আলীকে টেনে নামিয়ে পরপর কয়েকটি গুলি করে স্ত্রী-সন্তানদের চোখের সামনে হত্যা করে। এরপর তারা “সিরাজ-শিকদার” নামে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে এই সর্বহারা সন্ত্রাসীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে একভাগ যায় ত্রিশালের কানহরের দিকে, আরেক ভাগ যায় পশ্চিমে ভরেয়ার দিকে। তখনকার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করতে সাহস পায়নি তার পরিবার।

বঙ্গবন্ধুর পাঠানো শোকবার্তা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু খবর পাবার পর ৩১/০৭/৭৪ তারিখে একটি শোকবার্তা পাঠিয়ে ছিলেন। কিছুদিন পর শহীদ ইমান আলীর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে তার স্ত্রী গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। বঙ্গবন্ধু ইমান আলীকে খুবই স্নেহ করতেন। সেদিন তিনি বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, একদিন অবশ্যই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ধ্বংস করার জন্য আমার কাছের মানুষদের হত্যা করছে, তাদের বিচার হবেই হবে। এ সান্ত্বনা দিয়েছিলেন তিনি ইমান আলীর স্ত্রীকে। কিন্তু, আজ পর্যন্ত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ