spot_img

ময়মনসিংহে চোর সন্দেহে কিশোরকে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহ ব্যুরো ,  জনতারআদালত.কম । ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

 

পানির মর্টার চুরির চেষ্টা কালে ধৃত যুবক কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে (২৫ সেপ্টেম্বর) সোমবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর গ্রামে।

নিহত সাগর মিয়া (১৮) ময়মনসিংহের রেলওয়ে বস্তির নাটকঘরলেন সিহাব উদ্দিন শিপন মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে উল্লেখিত এলাকার গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের একটি পানির মর্টার চুরির চেষ্টাকালে ১৮ বছরের এক যুবক জনতার হাতে ধরা পড়ে।

মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মালিক আক্কাস আলী ও তার লোকজন ওই কিশোরকে গাছ ও রড-সিমেন্টের তৈরি খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্যাতনের সময় ছেলেটি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি দেয়া হয়নি। এরপর ছেলেটিকে চরশ্রীরামপুরের হামেদ আলীর ছেলে আহাম্মদ আলীর অটোগাড়িতে করে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যায়।

ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার বলেন, “অনেকের মোবাইল ফোনে খুঁটিতে বাঁধা রক্তাক্ত কিশোরের মাথা নিচের দিকে হেলে পড়া ছবিটি আমি দেখেছি। অত্যন্ত নৃশংস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।”

সাগর ভাঙ্গারি কুড়িয়ে বেচতেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা শিপন মিয়া।
উল্লেখ্য, যুবককে হত্যার পর তার লাশ গুম করার জন্য হ্যাচারীর পিছনের ছন ক্ষেতে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। (২৬ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এলাকাবাসী লাশের সন্ধান পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনার পর পরই আক্কাস আলী ও তার আত্মীয়স্বজন পালিয়ে যায়। গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের অফিসেও তালা ঝুলছে।

আক্কাস আলীর স্ত্রী শিউলী আক্তার জানান,  তাদের মৎস্য খামারে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি শোনেননি।

আক্কাস আলীর মুঠোফোনে কয়েকবার সংযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আক্কাস  চরশ্রীরামপুরের মৃত শহর আলীর ছেলে।

গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহম্মদ জানান, আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ