spot_img

মুসলিমদের সাথে কথা বলতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইলেন অং সান সুকি

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু কি শরণার্থী সংকট বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রশ্নে আগাগোড়াই নীরব থাকার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন তিনি। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেও এতোদিন এ প্রসঙ্গে কিছু না বলায় আন্তর্জাতিক মহলে তিনি তীব্রভাবে সমালোচিত হচ্ছিলেন।

এ অবস্থায় সুকি মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সুকি ৩০ মিনিটের টেলিভিশন ভাষণে তার সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, আজকের বিশ্বের অভিশাপ ঘৃণা ও আতংক।আমরা চাই না মিয়ানমার এমন একটি দেশ হোক যেটি হবে ধর্মীয় ও জাতিগতভাবে বিভাজিত।
সহিসংতার মুখে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তাদের প্রতি দু:খ প্রকাশ করে সুকি বলেন, যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ যে কোন সময়ই প্রস্তুত রয়েছে।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী সুকি পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেও তার সরকার কাজ করবে।

টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ” বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন।” মুসলিমরা কেন চলে যাচ্ছে সেটি খুঁজে বের করার জন্য তিনি তাদের সাথে কথা বলতে চান।

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি  সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছেন।

সুকি’র এ ভাষণ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের মাঝে প্রবল আগ্রহ ছিল। মিয়ানমারের নেত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণে ভীত নন। রাখাইন অঞ্চলে সংঘাতের নিরসনের জন্য একটি টেকসই সমাধানের উপর জোর দেন সুকি।

কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ হবে সু কি’র জন্য শেষ সুযোগ।

কিন্তু এ ‘শেষ সুযোগ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করেননি জাতিসংঘের মহাসচিব।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপর অস্ত্র বিক্রিসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সু কি’র এ ভাষণে নতুন কিছু আসে কি না সেদিকে অনেকের নজর ছিল।

 

গত তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে পালিয়ে প্রায় চার লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

এই ভাষণের মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান আনার জন্যে চাপ সু কি’র উপর চাপ তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।

এদিকে, সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে অং সান সু কিকে নিজের নেতৃত্ব প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছিল ফ্রান্স ও ব্রিটেন।

অগাস্ট মাসের ২৫ তারিখে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর সে হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করে দেশটির সরকার।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেভাবে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সেটিকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ সাথে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘে চলমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি সু কি। তিনি বলেছিলেন, অধিবেশনে যোগ না দিয়ে মিয়ানমারে ভাষণ দেবেন।

কয়েকদিন আগে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মিন অং হাইং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য মিয়ানমারের ভেতরে সবাইকে আহবান জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী মনে করে, রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গারা একটি শক্ত ঘাটি গড়ে তুলতে চাইছে। যদিও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয়না। সেনাবাহিনী এবং সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালী’ মনে করে।

শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এ কথাও বলেছিলেন যে রোহিঙ্গারা কখনোই মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ