ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আমন্ত্রণ জানানো স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ইইউ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে—রাখাইন রাজ্যে মানবিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবস্থা শোচনীয়। সেখানে ধারাবাহিকভাবে গোলাগুলি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর তাৎক্ষণিক অবসান হওয়া প্রয়োজন।
সহিংসতা ও আতঙ্কের কারণে পাঁচ লাখের বেশি লোক, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যখন বিপুলসংখ্যক মানুষ দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়, তখন বুঝতে হবে সেখানে সংখ্যালঘুদের বের করে দেওয়ার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক সাহায্য দেওয়ার জন্য ও গণমাধ্যমের রাখাইনে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিধি-নিষেধ আছে। এর ফলে চাহিদার সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর সেনা অভিযানের মধ্যে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম এই পর্যন্ত পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এই ঘটনার শুরু থেকে মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করে আসা ইউরোপীয় কাউন্সিল রোহিঙ্গা নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সেনা অভিযান এখনই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপের দেশগুলোর জোটের বৈঠকে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের আলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের সব আমন্ত্রণ স্থগিত করবে।”
মিয়ানমারের রাষ্টীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি তার দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইইউ।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আলোচনা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


























