ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ৯ আগষ্ট, ২০১৭ ।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় সম্পর্কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর জনগণের প্রজাতন্ত্র নয়, বরং এটা বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেওয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত ও আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল।
আজ বুধবার বিকেলে আইন কমিশনের কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা ফউজুল আজিম।
সুপ্রিম কোর্ট ভুল করলে কোথায় যাবো ? এমন প্রশ্ন রেখে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সুপ্রিমকোর্ট সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যে কোন রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যে কেউ সেই রায় নিয়ে সমালোচনা করতে পারবে। আমি ষোড়শ সংশোধনীর রায় পড়ে দেখেছি যে এই রায়ে অনেক অপ্রাসংগিক মন্তব্য রয়েছে। যে সব কথার কোন প্রয়োজনই এই রায়ে ছিল না।
তিনি বলেন, “অনারেবল চিফ জাস্টিস যদি বলেন, পার্লামেন্ট ইজ ইমম্যাচিউর বা সংসদ সদস্যরা অপরিপক্ক, তাহলে তো আমাকে বলতে হয়, অভিয়াসলি লজিক্যালি চলে আসে, সুপ্রিম কোর্টের জজ সাহেবরাও তাহলে ইমম্যাচিউর। কারণ তারাও তাদের রায়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের বিষয়ে বলেছেন, যা তাদের বলার দরকারই ছিল না।
পরস্পরের প্রতি সম্মান না রেখে একে অপরের প্রতি অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করলে তা দুই পক্ষেরই অপরিপক্কতার প্রমাণ দেয় বলে মন্তব্য করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান।
বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, ‘জাজমেন্টের ২২৩ ও ২২৪ পাতায় বলা হয়েছে, এমপি হওয়ার আগে বিবেচনা করা উচিত, তাঁরা এমপি হওয়ার যোগ্য কি না। এখন এমপি হওয়া যোগ্য কি না সেটা ভোটাররা বুঝেছে, যারা ভোট দিয়ে তাদের এমপি বানিয়েছে। এখানে তো সুপ্রিম কোর্টের এ ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। যদি এখন এমপি সাহেবরা উল্টো বলেন, হাইকোর্টের জাজরা বিচারপতি হওয়ার যোগ্য কি না, এটা বিবেচনার দাবি রাখে, তখন কেমন শোনা যাবে। কথায় তো কথা বাড়ে। এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আসবে ?’
তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রথম কোন রায়ে দেখলাম যেখানে অরিজিনালকে বাদ দিয়ে মার্শাল ‘ল এর প্রভিসনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
গত ১ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় । সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়।।
প্রকাশিত রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতেই ফিরেছে।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে রায়ে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।
ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।


























