spot_img

ভারত-চীন উত্তেজনার মধ্যেই জার্মানিতে কথা মোদি ও জিনপিংয়ের

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতার আদালত.কম , ৮ জুলাই, ২০১৭ ।

 

 

 

 

 

 

একদিকে ভূটানের জমি নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্মুখ সমরের মতো টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং এর মধ্যে সাক্ষাৎ হল। কথাও হল দুজনের। জার্মানির হামবুর্গে।

অন্যদিকে গোটা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে আজ  মোদি সবথেকে বেশি জোর দিলেন সন্ত্রাসের মোকাবিলার উপর। কড়া বার্তা দেওয়া হল পাকিস্তানকেও। চীনের সামনেই মোদি বললেন, বিভিন্ন নামে সন্ত্রাসবাদের সম্প্রসারণ ঘটলেও লক্ষ্য সব সন্ত্রাসের একই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব দেশকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে এবং মদতদাতাদের কোণঠাসা করতে হবে। উপলক্ষ্য ছিল জি ২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বার্ষিক অধিবেশন।

সেখানে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসাবে উপস্থিত ভারত ও চীন। সেই সম্মেলনের ফাঁকেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পৃথক বৈঠকের কোনও কর্মসূচি ছিল না। তবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো মঞ্চে সবটাই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর। প্রাথমিক আলাপচারিতার পর তাই প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট জিনপিং এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়েই কথা হয়েছে।

দুই দেশের বিদেশমন্ত্রককে জানানো হয় মোদি এবং জিনপিং পৃথকভাবেও কথা বলবেন। তারপরই আচমকা আজ. দুই রাষ্ট্রপ্রধান মিলিত হন বৈঠকে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্ত সমস্যা থেকে সন্ত্রাস। নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ থেকে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুজনের মধ্যে আলোচনার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার অর্থ সম্ভবত ভুটান সমস্যার ক্ষেত্রে সামান্য হলেও বরফ গলছে। কারণ গতকালই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সীমান্তে যে সমস্যা শুরু হয়েছে সেই আবহে দুই দেশের মধ্যে এখনই দ্বিপাক্ষিক কোনও বৈঠকের পরিস্থিতি নেই। ২৫ ঘন্টার মধ্যেই চীনের সেই কঠোর অবস্থান বদলে গেল কেন? কারণ চীন সম্ভবত ২০ দিনের টানাপোড়েনে বুঝতে পেরেছে ভারত সেভাবে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে না। তাই আলোচনাই একমাত্র পথ। এই আলোচনার পথ যে প্রশস্ত হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় ব্রিকস গোষ্ঠীর বৈঠকের শুরুতেই।

ব্রাজিল, ভারত, চীন ,দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই ব্রিকস রাষ্ট্রগোষ্ঠীর বৈঠকের শুরুতে‌ই চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং ভারতের প্রশংসা করেন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায়। গোয়ায় আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের অ্যাজেন্ডাগুলি যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যকর করেছেন সেটি উল্লেখ করে মোদির সক্রিয়যার প্রশংসা করেন তিনি।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঠিক সেই সুরেই প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংএর সম্পর্কে  ইতিবাচক বাক্য বলেন, পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলন চীনে হতে চলেছে। ব্রিকসের প্রধান লক্ষ্য পূরণে চীনের ভূমিকাই যে সর্বদাই অত্যন্ত সক্রিয় সেই মন্তব্য করে মোদি আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানান জিনপিংকে।

এভাবে সম্মেলনের শুরুতেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই পারস্পরিক পিঠ চাপড়ানির মাধ্যমে আভাস পাওয়া যায় সম্ভবত গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মধ্যে অবশ্যই কোনও ব্যাক চ্যানেল ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসি চলেছে। অর্থাৎ আড়ালে ভুটান সংকট মেটানোর রাস্তা খোঁজা তথা শীতল সম্পর্কে উষ্ণতা আনার পুনরায় প্রয়াসের একটি প্রক্রিয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ারই সুফল আজকের জিনপিং ও মোদির বৈঠক।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ