spot_img

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যাপক ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১৮ জুলাই, ২০১৭ ।

 

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই গতরাতে শাসক এনডিএ শিবির আসন্ন উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বেঙ্কাইয়া নাইডুকে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করল। মোদি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর উপ-রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলকেও অনিবার্য করল।

এর আগে অবশ্য আজ দিনভর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী দু’তরফই ‘ক্রস ভোটিং’য়ের আশা-আশঙ্কায় দোদুল্যমান ছিল। যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনও দলই এমপি অথবা বিধায়কদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিতে পারে না কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে, তাই কে কাকে ভোট দিল সেই জল্পনা বাড়তেই থাকে। বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক সমীকরণ সদা পরিবর্তনশীল। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই নানা অঘটন ঘটেছে।

দলের অবস্থানের বিপরীত ভূমিকা গ্রহণ করে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া অথবা রাতারাতি ভোটবদল ইত্যাদি অনেক ঘটনারই সাক্ষী সংসদ ভবন তথা বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভা। বস্তুত সরকারপক্ষ এবং বিরোধী জোট, কোনও পক্ষই নিশ্চিত নয় যে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। বরং আজ প্রায় সকাল থেকে যতই দিন এগিয়েছে ততই সরকারপক্ষের প্রফুল্ল মনোভাব থেকে স্পষ্ট, তারা আশা করছে ব্যাপক ক্রস ভোটিং হয়েছে তাদের পক্ষে। অর্থাৎ বিরোধী শিবিরে নির্বাচনের আগেই যে শুধু ফাটল ধরেছিল তাই নয়, নির্বাচনের দিনও বিরোধী শিবিরে সিঁদ কাটতে সক্ষম হয়েছে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের দল।

ভোটগ্রহণ হয়েছে গোপন ব্যালটে। সুতরাং আপাতভাবে আজ জানার উপায় ছিল না আদৌ কে কাকে ভোট দিলেন। কিন্তু বিজেপি শিবিরের দাবি বিরোধী জোট ছত্রখান হয়ে যাবে।

২০ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলপ্রকাশ। ২৫ জুলাই নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। কেউ প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা দলের বিরুদ্ধে গিয়েই ভোট দিয়েছে। যেমন সমাজবাদী পার্টি। পিতা মুলায়ম সিং যাদব ও তাঁর ভাই শিবপাল সিং যাদব নরেন্দ্র মোদির প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দকেই ভোট দিলেন। সেটা তাঁরা আজ সকালেই জানিয়ে দিয়েছেন। অথচ পুত্র অখিলেশ যাদব এবং তাঁর অনুগামীরা ভোট দিয়েছেন বিরোধী প্রার্থী মীরা কুমারকে। কিন্তু মায়াবতী কী করেছেন? কারণ আজ ভোটের দিন তাঁর একটি মন্তব্য বেশ রহস্যময়। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সাঙ্গ হয়েছে। এবার যে প্রার্থীই জিতুন না কেন আমরা আনন্দিত যে একজন দলিতকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে ভারত পেতে চলেছে। এটা আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনেরই জয়।

সবথেকে ক্রস ভোটিংয়ের আশঙ্কা আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে। বিজু জনতা দল জানিয়েছে বটে যে, তাঁরা সরকারি প্রার্থীকেই সমর্থন করছে। কিন্তু বিজেপি ২০১৯ সালে বিজু জনতা দলকে ওড়িশায় পরাজিত করে ক্ষমতায় আসার মরিয়া চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সত্যিই কি নবীন পট্টনায়ক বিজেপির প্রার্থীকেই রাষ্ট্রপতি হিসাবে ভোট দিয়েছেন? বিরোধী জোটে সবথেকে বড় ধাক্কা নীতীশ কুমার দিয়েছেন। তিনি সরকারি প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। এটি ঘোষিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু অঘোষিত ক্রস ভোটিং কত হল? বিজেপি’র ভোট ম্যানেজারদের দাবি ব্যাপক ক্রস ভোটিং হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বিজেপি ক্রস ভোটিংয়ের আশা করছে। তা নিয়ে আজ বিস্তর জল্পনাও চলছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অঙ্কের হিসাবে বিভিন্ন দলের ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী রামনাথ কোবিন্দ ৭০ শতাংশের বেশি ভোটে এগিয়ে থাকছেন। সুতরাং তাঁর জয় নিয়ে কোনও টেনশন নেই। কিন্তু সরকার পক্ষ চাইছে, এই ঘোষিত পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে যাতে অপ্রত্যাশিত এবং হিসাবের বাইরের অতিরিক্ত ভোটও জমা পড়ে ভাঁড়ারে। কারণ বিজেপি জোর বার্তা দিতে চায়, প্রকাশ্যে এবং গোপনে কোনওভাবেই বিরোধী জোটকে অটুট রাখতে সোনিয়া গান্ধীরা সক্ষম নন। জানা যাচ্ছে, সেই কারণেই গত ১০ দিনে বিজেপির ম্যানেজাররা অভিযানে নামেন। এবং তারই ফলশ্রুতি হতে চলেছে ব্যাপক ক্রস ভোটিং। বৃহস্পতিবার জানা যাবে বিজেপির এই অঙ্কটি মেলে কি না। কারণ বিরোধী জোটের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে এনডিএ অটুট রাখতে পারেননি মোদি। ব্যালট বাক্স খুললেই তা প্রমাণ হবে। সুতরাং কে জয়ী হবেন তা স্পষ্ট হলেও ক্রস ভোটিং রহস্য রয়েই যাচ্ছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ