ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন আশ্রিত ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
১৫ অক্টোবরের মধ্যে ৬০টি মেডিকেল টিম গঠন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেবা দেয়া হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেদেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় গ্রহণকারি লাখ-লাখ অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জন্য ব্র্যাক প্রথম থেকেই সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মূলত নারী ও শিশুদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, টিউবওয়েল এবং শৌচাগার স্থাপনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি, পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম), ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, অসএইড, ডিএফআইডি এবং গ্লোবাল ফান্ডের সমন্বয় ও সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে ।
উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করছে ব্র্যাকের প্রায় ২০০ জন কর্মী। এ পর্যন্ত ৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
গত শনিবার পর্যন্ত ব্র্যাক ১৯৬টি নলকূপ, ২২৪টি ল্যাট্রিন ও ৩৫টি গোসলখানা স্থাপন করেছে। প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্র্যাকের কর্মীরা সেখানে গিয়ে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় উপকরণও আনা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ।
এছাড়াও ১৫ হাজার ল্যাট্রিন ও এক হাজার একশ’ ২০ টি টিউবওয়েল (১২০টি গভীর নলকূপসহ) বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ব্র্যাকের। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১০টি ম্যাটারনিটি সেন্টার খোলা হবে, এগুলোতে সেবা দেবেন ২০ জন ধাত্রী ও ১০ জন সেক্টর স্পেশালিস্ট।
আশ্রয়ের খোঁজে যারা এসেছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু। তাই এদের মানসিক চাপ কমাতে ইতিমধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি শিশুকে খেলাধুলা ও গল্প বলার মাধ্যমে বিনোদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্র্যাক। এই পর্যন্ত কুতুপালং, লেদা ও শ্যামলাপুরে স্থায়ী তিনটিসহ ছয়টি শিশুবান্ধব কেন্দ্র এবং কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে।
আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ২০টি শিশুবান্ধব কেন্দ্র চালু করা হবে। এসবের মাধ্যমে ৩ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন।


























