বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক ,
জনতারআদালত.কম । ২৮ আগষ্ট, ২০১৭ ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৪/০৮/১৭ তাং বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেয়া এক ঘোষণায় তারা এক ঐক্যের ডাক দেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি’র এক সময়ের সেক্রেটারি বি. চৌধুরী সাহেব তার নেতাকে (যিনি জেনারেল জিয়াউর রহমান, তিনিই সাপের ওঝার মতো সেনাবাহিনীকে নিয়ে খেলা করতেন) সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য যখন চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে গুলি করে হত্যা করে , তখন তিনি খাটের নীচে আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে ছিলেন । তিনি ভিরু-কাপুরুষ বি. চৌধুরী ।
আরেকজন বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন সংকটকালে দেশের বাহিরে চলে যান নানা অজুহাতে । তাই আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ তাকে “জাতীয় বেইমান” উপাধি দিয়েছে। তাদের তথাকথিত জাতীয় ঐক্য দেশবাসীর কোনো কল্যাণেই আসবে না। এজন্য জ্ঞানী লোকেরা সর্বদা বলেন- সবাই যেনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করে, আমি কে, কী আমার পরিচয়, আমি কোথায় ছিলাম, কোথায় যাবো, আমার কি করা উচিত ছিলো আর আমি কি করেছি, কি করতে পারিনি; আমি যা করেছি তা ন্যায় না অন্যায় ?
কারণ, মানুষের বিবেক হলো সবচেয়ে বড় আদালত। খালেদা জিয়ার সন্তান, ফেরারি আসামী- তারেক রহমানের লেলিয়ে দেয়া গুণ্ডাদের তাড়া খেয়ে মহাখালী রেল-স্টেশন দিয়ে বাবা ও ছেলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ে পালিয়েছিলো। টিভি স্ক্রিনে দেখে মনে হয়েছিলো, বাপ-বেটা অলিম্পিক দৌড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

ছিঃ ছিঃ লজ্জা করে না আপনাদের ? দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আজ পর্যন্ত ভালো কোনো কিছু করতে পারেননি। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি, আরেকজন নামকরা ব্যারিস্টার। কয়েকদিন পরপর দেখি, দু’জনের সাথে সব ব্যর্থ লোকজন নিয়ে মিটিং-সিটিং, খাওয়া-দাওয়া শেষে মিডিয়ার মাধ্যমে জানান দেওয়া ।

আপনারা এখনো আপনাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের কর্মই বলেন আর অপকর্মই বলেন, তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য শুধু একটাই, আর তা হলো- বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সরকারকে যেনতেন ভাবে সরানো।
চৌধুরী সাহেব, সবিনয়ে আপনাকে বলছি , খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া আপনাকে বঙ্গভবন থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দিয়েছিলো, জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলো, এখন কোন মুখে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে খালেদার কানে ফিসফিসিয়ে চক্রান্তের পরামর্শ দেন ?

শেখ হাসিনার ক্ষতি করার জন্য দু’জনের বাসভবনকে কাশিম-বাজার কুঠিতে পরিণত করেছেন। জাতি আপনাদের এখন বেহায়া এরশাদের চেয়েও নিকৃষ্টের চোখে দেখে। আপনাদের আবার কিসের জাতীয় ঐক্য ? কাদের জন্য এই ঐক্য ? কার লাভের জন্য এই ঐক্য ?

আপনারা জানেন, আপনাদের দু’জনের মাঝে কেউই নির্বাচনে কোনোভাবেই পাশ করে আসতে পারবেন না। সচেতন জনগণ এটা জানে যে, আপনারা স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকেও নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারবেন না। তাই আবারো আপনাদের বলছি, কোনো অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলার ১৬কোটি মানুষের শেষ ঠিকানা গণতন্ত্রের মানসকন্যা, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনোরূপ ক্ষতি করার চক্রান্তে লিপ্ত হবেন না।
বাংলার সচেতন মানুষেরা শেখ হাসিনার উন্নয়নকামী গণতন্ত্রের উপর বিশ্বাসী। ভাত ও ভোটের জন্যই বঙ্গবন্ধু আজীবন আন্দোলন করেছেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা দীর্ঘ নয় মাস পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দালালদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।
পাকিস্তানীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় দেশের কতিপয় চক্রান্তকারী অশুভ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীরা মিলে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। কিন্তু, আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক চড়াই-উতরাই পার করে দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছেন।
ভীরু-কাপুরুষ, বেইমান ও খুনিদের জন্য জনগণের রাজনীতি নয়। রাজনীতিবিদ তাকেই মানায়- যিনি বিশ্বব্যাংক, পশ্চিমাগোষ্ঠী ও সুদখোর ইউনুসের খবরদারী এবং বিশ্বের শক্তিধর দেশ আমেরিকাকে তোয়াক্কা না করে, সালাম না দিয়ে নিজস্ব অর্থে জনমানুষের প্রাণের দাবি- “পদ্মাসেতু” নির্মাণ করে বিশ্ববাসীকে একহাত দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে দেশ ও দেশবাসীকে ভালোবেসে, সৎ উদ্দেশ্যে, সৎভাবে জীবনযাপন করে- দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করে গণতান্ত্রিকভাবে সুশাসন কায়েম করা একমাত্র প্রবল সাহসী জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব।
আজ জাতীয় ঐক্য সত্যিই খুব প্রয়োজন। তবে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকারী ও তাদের দোসর এবং ঐ হত্যাকাণ্ডের মদদদাতাদের সাথে কোনোমতেই ঐক্য হতে পারে না।ঐক্য হতে পারে না তাদের সাথে, যারা ১৫ই আগষ্ট অথবা ২১শে আগষ্ট হত্যাকান্ডকে “মামুলী ঘটনা” বলে আখ্যা দেয়। ঐক্য হতে পারে না, যারা ১৫ই আগস্টকে মিথ্যা জন্মদিন বানিয়ে কেক কেটে ফুর্তি করে, তাদের সাথে। ঐক্য হতে পারে না তাদের সাথে, যারা- ২১শে আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে নারীনেত্রী আইভি রহমানের সাথে ২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে মর্মান্তিকভাবে আহত করেছে।
এদের সাথে ঐক্য তো দূরের কথা, কোনোরূপ সংলাপেও যাবেনা মুক্তিকামী মানুষের সংগঠন আওয়ামীলীগ। এটিই আশা করে মুজিব আদর্শের কোটিকোটি সৈনিক ভাই ও বোনেরা। যারা মৌলবাদের রাজনীতি করে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে –তাদের সাথে কোনোরূপ আপোষ না করে এসকল বর্ণচোরাদের চিরতরে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করবেই আওয়ামীলীগ।
পরিশেষে বলতে চাই, আসুন, লোক হাসানো, ভিত্তিহীন এই জাতীয় ঐক্য না গড়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা, ১৬কোটি মানুষের ঠিকানা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল-মডেল ও মধ্যমণি- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভানেত্রী ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সুশাসন কায়েমের জন্য সত্যিকারের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।


























