মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও , জনতারআদালত.কম । ২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ।

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২৭ নভেম্বর সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী থানার সামনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পুলিশ।
লাইসেন্স বিহীন, হেলমেট বিহীন চালক, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বীমার কাগজ না থাকার কারণে এ সময় কয়েকটি মোটর সাইকেল থানার ভিতরে আটক করলেও পরে কোন মামলা ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটক হওয়া কয়েকজন মোটর সাইকেলের মালিক জানান, সকালে পুলিশ হঠাৎ থানার সামনে মোবাইল কোর্ট অভিযান বসালে আমাদের গাড়ীগুলির লাইসেন্স না থাকার কারণে আটক করে রাখে। পরে চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে ক্রমান্বয়ে গাড়ীগুলো ছেড়ে দিয়েছে।
২৭ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১টার সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, থানার ভিতরে ৬-৭টি গাড়ী লাইসেন্স বিহীন, হেলমেট বিহীন চালক, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বীমার কাগজ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কয়েকটি গাড়ী আটক অবস্থা দেখা যায়। এ সময় বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান থানায় না থাকার কারণে কোন অফিসার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।
মোবাইল কোর্ট অভিযানে কোন মামলা দায়েরের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, সকালে এসআই সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
এসআই সিরাজউদ্দৌলার নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মোবাইল কোর্ট অভিযান নয়, সকালে গাড়ীর লাইসেন্স করার তাগিদ দিতে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করি। তার কাছে গাড়ীর আটক করে মামলা কেন দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন লোকজনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে গাড়ীগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, এটা পুলিশের বিশেষ অভিযান। মাঝে মাঝে এ অভিযান চালানো হয়। গাড়ীর মালিকানা সম্পর্কিত কাগজপত্র দেখেই গাড়ীগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকার সুধী সমাজের লোকজনের অভিযোগ, এলাকার আইন থাকলেও যথাযথ ভাবে আইনের প্রয়োগ না থাকার ফলেই এলাকার লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল গুলো অবাধে চলাফেরা করতে সাহস পাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, পুলিশ মাঝে মাঝেই এ ধরণের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এবং কিছু গাড়ী ধরার পর ছেড়ে দেয়। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রায় ৮০ ভাগ মোটর সাইকেল উন্মুক্তভাবে লাইসেন্স বিহীন চলাফেরা করে। সরকার বার বার মোটর সাইকেল লাইসেন্স করার নির্দেশনা এমনকি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।


























