ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থচুরি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। বিবিসির প্রতিবেদক জিওফ হোয়াইট ও জিন এইচ লির এ প্রতিবেদনে জানা গেছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থচুরিতে জড়িত ছিল উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা।
১০ পর্বের নতুন প্রতিবেদন রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির দুর্ধষ কাহিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার ২০১৬ সালে চুরির পরিকল্পনা করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। যদিও তারা মাত্র ৮১ মিলিয়ন ডলার সরাতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এবং বিচ্ছিন্ন দেশটি কীভাবে এলিট সাইবার ক্রিমিনাল টিম তৈরি করল সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হ্যাকাররা ঘটনা ঘটায় মূলত বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটায়, সে সময় ছিল নিউইয়র্কে সকাল। অর্থাৎ বাংলাদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম তখন বন্ধ, তবে যুক্তরাষ্ট্রে সকাল হওয়ায় তখনো সেখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে।
এদিকে পরদিন মানে শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। আবার বাংলাদেশে যখন এতবড় হ্যাকিংয়ের তথ্য উদ্ঘাটন হয় সেদিন শনিবার রাত। পরদিন আবার যুক্তরাষ্ট্র সাপ্তাহিক ছুটি।
প্রতিবেদনে জানা যায়, কীভাবে বিপুল অর্থ সরানোর জন্য একদল হ্যাকার ভয়াবহ পরিকল্পনা করে। চুরির যে আলামত এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তাতে উত্তর কোরিয়া এ ঘটনায় জড়িত বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিবিসি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, হ্যাকাররা এ ঘটনার জন্য যে মূল যন্ত্র ব্যবহার করে তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ত্রুটিযুক্ত প্রিন্টার। মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দশম তলায় অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘরের অভ্যন্তরে বসানো ছিলো প্রিন্টারটি। কোটি কোটি ডলারের ট্রান্সফার ব্যাংকের বাইরে ও ভেতরে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড ছাপানো হতো এটি দিয়ে।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাসেল আহলাম নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েক জন কর্মীর কাছে চাকরি চেয়ে মেইল আসে। তার বিনীত আহ্বানের সেই মেইলে সিভি এবং কভার লেটার ডাউনলোডের অনুরোধ জানানো হয়।
রাসেল নামের কারো আসলে অস্তিত্ব ছিল না। লাজারাস গ্রুপের সদস্যরা এই নাম ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমপক্ষে এক জন কর্মী ওই সিভি ডাউনলোড করেন। তখনই ভাইরাস ঢুকে যায়।
ব্যাংকের সিস্টেমে ঢোকার পর লাজারাস গ্রুপ কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে। তারা ডিজিটাল ভল্টের সন্ধান চালাতে থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো হ্যাকাররা কেন এক বছর ধরে কম্পিউটার সিস্টেমে ঘুরে বেড়াল? বিবিসি বলছে, টাকা চুরি করে কীভাবে তারা সেটি হজম করবে, এগুলো ঠিক করতে সময় লেগেছে।


























