ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে মিঠামইনে পৌঁছান। এরপর তিনি বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিঠামইন সদরের ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে ২৭৫ একর জমিতে নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঁচটি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে তিনি এ উপলক্ষে বেলুন ওড়ান। তারপর সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সরকার প্রধান।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলায় মিঠামইনে নব প্রতিষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস হাওর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। তাছাড়া, দেশের উত্তর-পূর্বাংশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি(পরিবারের)সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু আমি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার আদর্শেই আমরা পথ চলছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি।’
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ, আমাদের রাষ্ট্রপতি। তিনি এ অঞ্চল থেকে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। সেই ৭০ এর নির্বাচন, ৭৩ এর নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিটি নির্বাচনে তিনি জয় লাভ করেছেন এবং জনগণের সেবা করে গেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির পর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এতে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি জিনিসের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। যেহেতু খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে, বাংলাদেশের যেন সে অবস্থা না হয়, এক ইঞ্চি জমিও আমরা অনাবাদি রাখব না। অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনব। খাদ্য উৎপাদন করব। দরকার হলে অন্য দেশকে সাহায্য করব।’
সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্দার প্রভাব যেন আমাদের ওপর না পড়ে, সে জন্য আমাদের সতর্ক হয়ে চলতে হবে। মিতব্যয়ী হতে হবে, সঞ্চয়ী হতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল, পানি সবকিছু ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে না।
এদিকে আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে তার পৈতৃক বাড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জোহরের নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। রাষ্ট্রপতির বাড়িতে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেল ৩টায় মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


























