ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না। সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
রোববার দিনাজপুরের জিলা স্কুলমাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারের কাজ শুরু হবে। যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে তাদের স্থাপনা ফিরিয়ে দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের জন্য আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় হেলিকপ্টারযোগে দিনাজপুর বড় মাঠে নেমে সরাসরি দিনাজপুর জিলা স্কুল আশ্রয় শিবিরে উপস্থিত হন। তিনি বন্যার্তদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল, ৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলি সাদিকসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ভাইরা ভয় পাবেন না। আপনারাই জাতির মেরুদণ্ড। আপনাদের ব্যাংক ঋণ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। যারা কৃষি ঋণ নিয়েছিলেন তাদেরকেও পুনরায় ঋণ প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যেই দেশের ২ কোটি কৃষককে ১০ টাকার একাউন্টের মাধ্যমে ১০টাকা দরে চাল প্রদান করা হচ্ছে। আরও এক কোটি লোককে ১০ টাকা কেজি দরে চাল প্রদান করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা শেখ মুজিবুরের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলা। তাই আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি বাংলার মানুষের জন্য দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তিনি আরো বলেন, সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ ছিল মঙ্গার দেশ। আমরা ’৯৬-তে ক্ষমতায় এসে মঙ্গা দূর করার জন্য কেবল বিভিন্ন কর্মসূচী ও প্রকল্প গ্রহণ করি। এর পরপরই আবারও জোট সরকার ২০০২ সালে ক্ষমতায় এসে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি নস্যাৎ করে দেয়। আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গে পূর্বের কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়ন করার কাজ পুরো দমে চালু করি এবং কয়েক বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে মঙ্গাকে বিদায় দেই।
সকল বিপর্যয়, দুর্যোগের সময় আমি আপনাদের সাথে ছিলাম এখনো আছি, আগামীতেও থাকবো। তিনি বলেন, দেশে ঘন ঘন বন্যার কবলে পড়লেও এ বছর খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ থাকার পরেও বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করেছি। খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় সব সময় সরকার প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতির পর শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম জেলার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম জেলা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন। এ ছাড়া এই মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশেও বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।
ত্রাণ বিতরণ শেষে বিকালেই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।