spot_img

ফিক্সিংয়ের দায়মুক্তির পরপরই বিশ্বকাপের স্বপ্ন শ্রীশান্তের

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ৮ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

ভারতের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শ্রীশান্তকে হাইকোর্ট স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি অন্তত আরও একবার দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার আশা ব্যক্ত করেছেন।

২০১৩ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বা আইপিএলের একটি ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই শ্রীশান্তকে সারা জীবনের মতো ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ঘোষণা করেছিল।

বিসিসিআইয়ের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান শ্রীশান্ত। সোমবার কেরালা হাইকোর্ট সেই মামলাতেই রায় দিয়েছে, শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে যে সব পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয়েছে তা অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।

শ্রীশান্ত যদি ওই বেটিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের কথা জেনেও থাকেন – তাহলেও চার বছর ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকার পর তার যথেষ্ট শাস্তি ভোগ করা হয়ে গেছে বলেও আদালত মন্তব্য করেছে।

কেরালা হাইকোর্টের এই রায়ের পর উচ্ছ্বসিত শ্রীশান্ত দাবি করেছেন, বিসিসিআই ও কেরালা ক্রিকেট সংস্থার সহযোগিতা পেলে দেশের হয়ে আবার তার পক্ষে খেলা সম্ভব।

৩৪ বছর বয়সী ওই ক্রিকেটার আরও মনে করছেন, “আমার মধ্যে এখন তিন-চার বছরের মতো ক্রিকেট অবশিষ্ট আছে।”

শ্রীশান্ত

শ্রীশান্ত ভারতের দুটি বিশ্বকাপজয়ী দলের স্কোয়াডে ছিলেন – ২০০৭য়ে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ২০১১র ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

সুযোগ পেলে তিনি ২০১৯র বিশ্বকাপেও দলে ফিরতে পারেন বলে শ্রীশান্ত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। নিজের বাড়ির ভেতরেই ছোট নেটে প্র্যাকটিস চালিয়ে তিনি নিজেকে ফিট রেখেছেন বলেও দাবি করেছেন শ্রীশান্ত।

তবে এর আগে ভারতের যে ক্রিকেটাররা ফিক্সিংয়ের জন্য বিসিসিআইয়ের সাজা পেয়েছেন, সেই মহম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় জাডেজা বা অজয় শর্মারা কেউই আর কখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেননি।

এখন সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত যে প্রশাসকরা বিসিসিআই চালাচ্ছেন, তারা অবশ্য কেউই কেরালা হাইকোর্টের রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

শ্রীশান্তের মতো বর্ণময় চরিত্র ভারতীয় ক্রিকেটে কমই এসেছে – আর পাঁচ-সাত বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে তাকে বিতর্কও তাড়া করেছে আগাগোড়াই।

আইপিএলের একটি ম্যাচের শেষে সতীর্থ ক্রিকেটার হরভজন সিং তাকে সপাটে চড় মেরেছিলেন – তারপর শ্রীশান্তের কান্নাভেজা চোখমুখ সারা দেশ টেলিভিশনে দেখেছিল।

শ্রীশান্তের স্ত্রী জয়পুরের এক রাজপরিবারের কন্যা। কেরালার এই ক্রিকেটার মালয়লাম সিনেমাতেও অভিনয়, গান, নাচ – সবই করেছেন। ক্রিকেটেও বিদেশের মাটিতে টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার সম্মান জুটেছে তার।

ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর রাজনীতিও পরখ করতে বাদ দেননি তিনি। গত বছর কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে তিরুবনন্তপুরম আসন থেকে লড়েওছিলেন – কিন্তু সাড়ে এগারো হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ