spot_img

প্রয়োজন হলে, খাবার ভাগ করে খাব : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

 

প্রয়োজনে শরণার্থী হিসেবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ খাবার ভাগ করে খাবে; কিন্তু মিয়ানমারের মতো তাদের নাফ নদীতে  ঠেলে দেবে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আজ জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনে সংসদ নেতার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। পাঁচ দিনের এ অধিবেশন শেষ হয় বৃহস্পতিবার। এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দুটি প্রস্তাব পাস হয়।

সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে এখনো আগুন দেওয়া থামেনি। সে দেশের তিন লাখের বেশি নাগরিক বাংলাদেশে চলে এসেছে। এখনো আসছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা বোঝা। কিন্তু মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের অধিবাসীদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ বিবেকে লেগেছে। কিন্তু কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে দেশে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, মিয়ানমারের বোধোদয় হবে। তারা নিজের দেশের নাগরিকের ওপর নির্যাতন বন্ধ করবে, তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে। যারা দোষী, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে নির্যাতন না করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কারণে আশ্রিতদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া থেকে রিলিফ পাঠিয়েছে। রিলিফ যাতে সুষ্ঠুভাবে বন্টন হয় সেজন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যাতে কষ্ট না হয় সেই কাজ করা হচ্ছে। যারা এসেছে তাদের জন্য ছবিসহ আইডি কার্ড করা হচ্ছে। ২ হাজার একশ’ একর জায়গায় সাময়িকভাবে রাখা হবে। এছাড়া ভাষানচরে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি, সেখানে অস্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসন সজাগ রয়েছে।

সংসদ নেতা বলেন, সবচেয়ে মানবিক দিক হলো শিশুরা। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। অনেক শিশুর আপনজন বলে কেউ নেই। এ ধরনের করুণ কাহিনী সেখনে চলছে। এ দৃশ্য আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। কারণ রিফিউজি হিসেবে থাকার কষ্ট আমি ও আমার বোন শেখ রেহানা বুঝি। আমাদের যতো কষ্টই হোক না কেন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতেই হবে। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিপদে পড়ে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয় সে জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনস্রোতের সঙ্গে মুল দোষী সন্ত্রাসীরা ঢুকতে না পারে, আশ্রয় না পায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। ত্রাণ যেসব আসছে সেগুলোও ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছি। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পারদর্শী। প্রয়োজন হলে আমাদের খাবার ভাগ করে খাব, কিন্তু আশ্রিতদের তো ফেলে দিতে পারি না। মিয়ানমারের মতো নাফ নদীতে কিংবা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। মানবিক দিক বিবেচনা করে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করি মিয়ানমারের চেতনা ফিরে আসবে, তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী চালের সংকট নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখ করে বলেন, কয়েকদিন আগে পত্র পত্রিকায় হুলস্থুল হয়েছিল আমাদের খাদ্য নিয়ে। খাদ্য নাই, খাদ্যের অভাব, চালের দাম বেড়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, চালের দাম বাড়ার কোন যৌক্তিকতাই আমি দেখিনা। এখানে কারা এই খেলাটা খেলছে সেটা আমাদের বের করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের একটা দুর্ভাগ্য যে কখনো কখনো কিছু মানুষ, মানুষকে নিয়েই খেলে। যেটা আমরা ’৭৪ সালেও দেখেছিলাম এবং তখন যিনি খাদ্য সচিব ছিলেন তাকে পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান মন্ত্রী বানিয়েছিল। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষ আর ’৭৫-এর পরে ঐ খাদ্য সচিবকে মন্ত্রী বানানোর যোগসূত্রটা কি সেটাও দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকেও আমাদের কিন্তু সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মওসুমে ২৭ লাখ মে.ট. আউশ চাল উৎপাদনের কথা রয়েছে। কাজেই এই ২৭ লাখ মে.ট. চাল যদি উৎপাদন হয়, তাহলে তো আমাদের অভাব থাকার কথা নয়।

সরকার প্রধান বলেন, সারা বাংলাদেশের কোথায় কোন্ গোডাউনে কতটুকু চাল আছে এবং কৃষকদের ঘরে ও মিল মালিকদের কাছে কোথায় কত চাল আছে তার একটা হিসাব আমরা নিচ্ছি।

এক্ষেত্রে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের কর্মকান্ড করছে (মজুদদারি) তারা কারা। তাদের যেন খুঁজে বের করে দেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশদ এরশাদ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শেষে স্পিকার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, তার এই বক্তব্য সংসদের রেকর্ডে থাকবে। এমনকি ফুটনোট হিসেবেও তা স্থান পাবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এরপরই তিনি প্রেসিডেন্টের আদেশ পাঠের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত ৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ