ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।।
কার্যত একটা গোটা অর্ধ দশ জনে খেলা ব্রাজিলকে কব্জা করতে পারলো না চিলি। হাড্ডাহাড্ডি মোকাবিলার পর শেষ হাসি হাসলেন নেইমাররা। কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ ফলাফলে ম্যাচ জিতল ব্রাজিল। পৌঁছে গেল টুর্নামেন্টের আরও একটি সেমিফাইনালে। ঘরের মাঠ খেতাব ধরে রাখাই যাদের লক্ষ্য।
রিও দে জেনেইরোর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে হওয়া চলতি কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম থেকেই ব্রাজিল ও চিলির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। দুই দলের আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণে ম্যাচ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। নেইমারকে সামনে রেখে ৪-২-৩-১ ছকে প্রথম একাদশ সাজান ব্রাজিলের কোচ তিতে। অন্যদিকে ৫-৩-২ ছকে রক্ষণ আঁটোসাঁটো করে চকিত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার পরিকল্পনা নেয় চিলি।
হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধে নেইমার, গ্যাব্রিয়াল জেসুস, রবের্ত ফিরমিনো এবং রিচার্লিসনের বোঝাপড়ায় বেশ কয়েকবার গোল করার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায় ব্রাজিল। প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে সফলতা থেকে বিচ্যুত হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। অনেকক্ষেত্রে একা কাটিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন নেইমার, জেসুসরা। অন্যদিকে প্রথমার্ধে সুযোগ পেলেও সেগুলি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় চিলিও। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ।
খেলা ঘুরতে শুরু করে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিট থেকে। স্ট্রাইকার রবের্ত ফিরমিনোর পরিবর্তে মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েতাকে নামিয়ে রণনীতিতে বদল ঘটান ব্রাজিল কোচ তিতে। তাতেই আরও লাগামছাড়া হয়ে তিন মিনিটের মধ্যে চিলির বক্সের একের পর এক আক্রমণ তুলে আনতে থাকে ব্রাজিল। ফলস্বরূপ এক সঙ্ঘবদ্ধ প্রচেষ্টায় গোল করেন পরিবর্ত পাকুয়েতাই। ৪৬ মিনিটে সফলতা পায় ব্রাজিল। ২ মিনিট পরেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ধাক্কাও খেতে হয়। লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে হয় গ্যাব্রিয়াল জেসুসকে।
১০ জনের ব্রাজিল কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে যায়। নেইমার এবং রিচার্লিসনকে সামনে রেখে তিতের দলের মাঝমাঠ ও ডিফেন্স দুর্গ সামলানোর কাজে জুটে যায়। এই সময় বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি পাস খেলতে থাকে চিলি। লাগাতার প্রচেষ্টার বলে গোল পেয়েও যান আর্তুরো ভিদাল, এডু ভার্গাসের দল। কিন্তু অফ সাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। প্রতি আক্রমণে উঠে বেশ কয়েকবার গোলের কাছে পৌঁছে যায় ব্রাজিলও। তবে চিলির ডিফেন্ডারদের পায়ের জঙ্গলে হারিয়ে যায় নেইমারদের প্রচেষ্টা। উল্টে কড়া ট্যাকেলের সম্মুখীন হয়ে বারবার মাঠে পড়ে যেতে দেখা যায় ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকাকে। সুদীর্ঘ সংগ্রামের পর ম্যাচে আর গোল না হওয়ায় সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ব্রাজিল।
//oi


























