ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৬ নভেম্বর, ২০১৭ ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন ও পরিচালনায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের পঞ্চম দিনে এ কথা বলেন তিনি।
আত্মপক্ষ সমর্থন বক্তব্যে এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া আরেক দিন সময় চাইলে আদালত ২৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।এর আগে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আদালতে পৌঁছেন তিনি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে দেয়া বক্তব্যে খালেদা বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এসব মামলা।
জিয়াউর রহমানের নামে অনুদান দিয়েছিল কুয়েত।এই অনুদান দুই ভাগ করে দুটি ট্রাস্টে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।ব্যক্তিগতভাবে আমার বা অন্য কারও লাভবান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুটি ট্রাস্টে আমি কোনো পদে ছিলাম না এখনও নেই।
তিনি বলেন, অনুদানের অর্থ আনা ও বিতরণে সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে যত মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হচ্ছে, আমি তত বেশি মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। বর্তমান শাসকদল ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে’আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করেছে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে সক্রিয় বলে আমাকে ক্ষমতাসীনরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেয়া হয়। অসত্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালিয়ে এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে এ সব মামলার আশ্রয় নিয়েছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে হেনস্তা করার ও জনগণের সামনে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি; হবেও না ইনশাআল্লাহ। বরং এসব করে তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কারণ, এ দেশের মানুষ অনেক সচেতন এবং তারা সত্য ও মিথ্যার ফারাক সহজে বুঝতে পারে। তাই যতই মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হচ্ছে, তত বেশি মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন,” প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে ।ক্ষমতাসীনদের পছন্দ না হওয়ায় তাকে (এস কে সিনহা) এভাবে চলে যেতে হয়েছে। শাসক মহলের বেপরোয় কর্মকাণ্ডে দেশে এখন ন্যায়বিচারের বদলে সৃষ্টি হয়েছে নাই বিচারের পরিবেশ।আমার আশঙ্কার জায়গা হচ্ছে- দেশে ন্যায়বিচারের পরিবেশ ও সুযোগ তারা (সরকার) ধ্বংস করে দিয়েছে। কাজেই আদালতের কাছে আমি ন্যায়বিচার পাব কী না- সেই সংশয় নিয়েই এ মামলায় আমাকে জবানবন্দি দিতে হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ছাড়া ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে দুদক।