spot_img

নেত্রকোনা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহ.আব্দুল হান্নান খান    

ময়মনসিংহ ব্যুরো , জনতারআদালত.কম , ২১ জুলাই, ২০১৭ ।

 

 

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মুহ.আবদুল হান্নান খান বলেছেন,  ” জনগনের জন্য আমি আগেও কাজ করেছি এখনও কাজ করছি। আমি জনগনের সাথেই আছি, থাকব। ” তাই আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা -৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাপুর ইউনিয়নের শিমুলকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের স্থান নির্ধারনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামধলা গ্রামে নদির উপর বেরিবাধঁ নির্মানে ২ কোটি টাকা, এবং শিমূলকান্দি গ্রামে বেরিবাধঁ নির্মানে ৭০ লক্ষ টাকা অনুমোদন ও খলিশাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের অনুমোদন বরাদ্দ করান, যার কাজ অচিরেই শুরু হবে ।

এদিন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্দেশ মোতাবেক পূর্বধলা উপজেলার  খলিশাপুর ইউনিয়নের  শিমূলকান্দি গ্রাম, জারিয়া ইউনিয়নের তুতিরকান্দি , পূর্বধলা ইউনিয়নের মৌদাম এবং গোয়ালকান্দা ইউনিয়নে মহিলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উঠোন বৈঠক করেন  এবং  তুতিরকান্দি ও মৌদামে নির্মানাধীন মসজিদ পরিদর্শন ও মুসুল্লিদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বাবু কেশব রঞ্জন সরকার,  মুক্তিযোদ্ধা আ: আজিজ, খলিশাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের খান, লেখক ও গবেষক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিরা । এ তালিকায় কপাল পুড়ছে বর্তমান সংসদে থাকা শতাধিক এমপির। যে সব এমপির এলাকায় গ্রহনযোগ্যতা নাই, যারা তৃনমুল নেতা-কর্মীদের দ্বিধাবিভক্ত করেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন তাদের নৌকায় তুলবেন না আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুলক। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে। সে কারনেই হিসাব নিকাশ করে এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও এলাকায় গ্রহন যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে ভোটের আগেই এগিয়ে থাকতে চায় ক্ষমতাসিন দল। এ ক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের কাছে ভাল ইমেজ, দক্ষ সংগঠক, সততা, শিক্ষিত, এমন যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরাই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে জানান দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের সভানেত্রী এখন থেকেই প্রত্যেক এলাকার খোজ খবর নেওয়া শুরু করেছেন। বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের আমলনামা সংগ্রহ ছাড়াও তিনি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারেও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কে বাদ পড়বেন এটিও যেমন দেখছেন, তেমনি চলমান সংসদের যে সব এমপিরা নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারনে আগামী নির্বাচনে  কি প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়টিও তিনি পর্যালোচনা করছেন।

এমন অবস্থায় নেত্রকোনা-৫ ( পূর্বধলা ) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী হাওয়া বয়ে বেড়াচ্ছে। বিগত দিনগুলোতে পূর্বধলায় জনগণের আশানুরুপ উন্নতি ঘটেনি বলে এ আসনের ভোটাররা এবার তাদের জনপ্রতিনিধি পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর । অভিযোগ আছে বর্তমান এমপি শুধু নিজস্বার্থ আর দলীয় কিছু সুযোগ সন্ধানী নেতাকর্মীর পিছনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এলাকার উন্নয়নে নির্মান হয়নি রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট, সরকারী ভবন। যে কারণে তিনি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনাস্থার আসনে জায়গা করে নিয়েছেন ।

জেষ্ঠ্য ভ্রাতা মরহুম আঃ ওয়াদুদ খানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ হয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি, বর্তমানে আইজিপি পদ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব,  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহ.আব্দুল হান্নান খানের ।

পরবর্তীতে কলেজ জীবনে ১৯৬১ সালে তৎকালীন স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে আলোচনায় আসেন জনাব হান্নান খান । যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছিলো বেশ কয়েকবার । ১৯৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য হান্নান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর মোনায়েম খানের হাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপণ করেন । ফলে সেই কনভোকেশন ভন্ডুল হয়ে যায় এবং এই কারণে তাঁকে ৬ মাসের কারাদন্ড ভোগ করতে হয় যা পরবর্তীতে গণ-আন্দোলনের মুখে সমাধানের মুখ দেখে ।

দেশের বিভিন্ন কলেজে ইংরেজী বিভাগে অধ্যাপনা করা জনাব হান্নান খান ১৯৭৩ সালে বিসিএস প্রথম ব্যাচে পুলিশ বিভাগে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন । পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, পুলিশ সিকিউরিটি সেল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, বগুড়া, ব্যাটালিয়ন, বান্দরবান ও সিআইডিতে বিভিন্ন পদে কর্মরিত ছিলেন । ১৯৯৬ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা “বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা”-র প্রধান তদন্ত তদারকী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন এবং জেল হত্যা মামলা , বুদ্ধিজীবি হত্যা মামলারও তদন্ত তদারকী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন ।

মুহ.আবদুল হান্নান খান তাঁর সাফল্যভরা কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি টানেন ২০০০ সালে ঢাকা রেঞ্জের অতিঃ ডিআইজি হিসেবে অবসর গ্রহণ করে ।

বর্তমানে তিনি আইজিপি পদ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন । তাঁর নেতৃত্বে তদন্ত সংস্থার সকল তদন্ত কর্মকর্তার দিবারাত্রি কঠোর পরিশ্রমের ফলে জাতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সুফল পেতে শুরু করেছে । স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর জাতি কলংকমুক্ত হতে যাচ্ছে জনাব হান্নান খানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু তদন্তের কারণে ।

সজ্জন, সদালাপী, জনসেবামুখি, জনদরদী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শের সৈনিক, তুখোড় আওয়ামী রাজনীতিবিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন দেশপ্রেমিক, জননন্দিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহ.আব্দুল হান্নান খানের প্রতি পূর্বধলাবাসীর এবারের আস্থা । তৃনমূলের নেতাকর্মীসহ গোটা পূর্বধলাবাসীর প্রত্যাশা পূর্বধলার জনস্বার্থে ও সার্বিক উন্নয়নে এবং গণমানুষের মুখে হাসি ফুটাতে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন তিনিই পাবেন।

এই প্রত্যাশায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন জনাব হান্নান খান । সে সাথে দলকে আরো সু-সংগঠিত ও আরো উজ্জ্বীবিত করে তুলতে কর্মী সমাবেশ সহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথাগুলো গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে মিটিং সমাবেশ এবং গণসংযোগের মাধ্যমে সকলের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ থাকবে না। দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে না, জ্বালাও-পোড়াও হবে না। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। মানুষ নিরাপদে-নিশ্চিন্তে শান্তিতে ঘুমাবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

দল, মত, গ্রুপিং নির্বিশেষে এলাকার সকলের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য প্রিয় ব্যক্তিত্ব । পূর্বধলাবাসী এবং   স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তির ধারণা, মুহ.আব্দুল হান্নান খান-ই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)  সংসদীয় আসনটি ধরে রাখার উপযুক্ত ব্যক্তি ।

 

 

 

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ