spot_img

দাম নেই চামড়ার, সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক

রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,

জনতারআদালত.কম । ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

এবারের ঈদে জামালপুরে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। জেলার ৭ উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হওয়ায় পশু কোরবানির সংখ্যা কমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাজার নিন্মমুখী হওয়ার পেছনে পাইকারি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও চামড়া সংগ্রাহকরা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী ও গুদাম মালিকরা বলছেন, ‘চামড়া সংগ্রহের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া কিনছেন।’

গুদাম মালিকরা জানান, ৫শ’ টাকা লবণের বস্তার দাম বেড়ে হয়েছে ১২শ’ টাকা। ২ দিন চুক্তিতে ১৫শ’ টাকার শ্রমিক খাটাতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। এছাড়া অন্যান্য খরচ-তো রয়েছেই।

জামালপুরে সম্প্রতি বন্যার প্রভাবে জেলা শহরে কোরবানি হলেও উপজেলাগুলোতে তেমন একটা পশু কুরবানি হয়নি। এ কারণে উপজেলাগুলো থেকে গত বারের তুলনায় ৪ ভাগের ১ ভাগও কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়নি।

খুচরা ব্যবসায়ী মিয়াপাড়ার কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, গুদামওয়ালারা সিন্ডিকেট করে ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছেন ৬ থেকে ৭শ’ টাকায়। আর ছাগল যত মূল্যের-ই হোক চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়। অনেকে গরুর সাথে ছাগলের চামড়া ফ্রি দিয়েছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, চামড়ার বাজার টালমাটাল করার জন্য দায়ী মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা সিন্ডিকেট করে নিম্ন মূল্যে চামড়া কিনে উচ্চমূল্যে আমাদের কাছে বিক্রি করেছে। সরকার গতবার ৭০-৭৫ টাকা প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছিল। ঈদের আগেও কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৭০-৭৫ টাকা। এবার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের চাপে প্রতি বর্গফুট চামড়া কিনতে হয়েছে ৬০ টাকা ধরে। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে দ্বিগুণ দামে লবণ কিনতে হচ্ছে।

এছাড়া শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলে চামড়া ৭০ টাকা বর্গফুটে গিয়ে ঠেকবে। সরকারি রেটে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনলে বিপুল অংকের লোকসান গুনতে হবে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের।

চামড়া ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ায় এবার নিজে চামড়া কিনছি না। গুদাম অন্য ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিয়ে তাদের চামড়া কিনে দিচ্ছি।’

জামালপুর শহরের চামড়া গুদাম এলাকার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘গত ঈদে ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে বাকিতে ১১’শ কাচা চামড়া পাঠিয়েছিলাম ঢাকার একটি ট্যানারিতে। অনেক ঘুরাঘুরি করে পর প্রথম কিস্তিতে ৩ লাখ টাকা পেয়েছিলাম। কয়েক মাস পর দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩ লাখ টাকা পাই।

এরপর কখনো ৩ লাখ কখনো ৫০ হাজার করে টাকা পেয়েছি। এখনো ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা ট্যানারি মালিকের কাছে পাওনা রয়েছি। ধারদেনা ও সুদের টাকা বইতে বইতে আমি নি:স্ব হওয়ার পথে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা পেলেও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা ব্যাংক ঋণ পেলে বর্তমানের চেয়ে অধিক পরিমাণে কাঁচা চামড়া সরবরাহ করতে পারবো। মুক্ত হতে পারবো সুদখোর মহাজনদের কবল থেকে।’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ