spot_img

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মা বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে চম্পট অধ্যক্ষ শাহীন

মজিবর রহমান শেখ,
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি , জনতারআদালত.কম । ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ।

 

ঠাকুরগাঁও শহরের মুলিম নগরে অবস্থিত মা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহীনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর স্কুল নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের। বর্তমানে স্কুলটি তালা ঝুলছে ।

এলাকাবাসী ও শিক্ষক সূত্রে জানা যায় ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে স্কুলটি যাত্রা শুরু করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাশেদুল হক প্রধান (তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের বাইরে কর্মরত আছেন), ওয়ার্ড কমিশনার আল মামুন, মহিলা কমিশনার নাজিরা আক্তার স্বপ্নাসহ অনেকে।

শিক্ষক/শিক্ষিকারা জানুয়ারী থেকে তাদের দায়িত্ব শুরু করলেও নিয়োগ পান ২০১৫ সালের মে মাসে। নিয়োগ পত্র অনুযায়ী একজন সহকারী শিক্ষক প্রতিমাসে ৪ হাজার সাতশত স্কেলে ৯হাজার সাতশত পয়তাল্লিশ টাকা হারে বেতনভাতাদি পাবেন। নিয়োগ পত্রের ২০ নং শর্ত অনুযায়ী নিয়োগ পত্র গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে মা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত মা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নামে মা ফাউন্ডেশনের হিসাব নম্বরে নিয়োগ পত্রে উল্লেখিত অনুদানের টাকা জমা করতে হবে। সে অনুযায়ী শিক্ষকগণ অনুদানের টাকা অধ্যক্ষ শাহীনের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। শিক্ষকদের চাকুরির মেয়াদ ৬মাস গত হয়ে গেলেও তারা কোন বেতন-ভাতাদি না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। বেতন ভাতা চাইতে গেলে শাহীন বলেন আজ দেব, কাল দেব করে শিক্ষকদের হয়রানি করেন। অবশেষে ২০১৫ সালের জুন মাসে শাহীন না পাত্তা হয়। অনেক যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান শিক্ষকরা। অবশেষে ক্ষোভে সন্ত্রস্ত হয়ে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষকরা। যা আজও তালা ঝুলছে স্কুলটিতে। অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী জমি-জমা বিক্রী এবং ঋণ করে ঐ স্কুলে অনুদানের টাকা প্রদান করলে আজও আশার মুখ দেখেননি শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা। সে বছর স্কুলটিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল প্রায় ৫০ জন। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ফি ও সেশনফি বাবদ টাকা দিয়েছিল ৪শ টাকা হারে, সে টাকাও আতœস্বাদ করেছে শাহীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শাহীনের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়, তার শ^শুরবাড়ী দেবীগঞ্জ উপজেলার ডাডুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায়। সে বর্তমানে তার শ্বশুরবাড়ীতে অবস্থান করছে, তার ভায়রা রফিকুল ইসলাম খানসামার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক।

নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক এমদাদুল হক শরিফ বলেন আমাদের বলেছে এটা প্রধানমন্ত্রীর স্কুল। ওনার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে এই স্কুল গুলো পরিচালিত হবে। তিনি আরো বলেন আমাদের নিয়োগ পত্রের নিচে উল্লেখ আছে মা বলতে সর্বকালে সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, দেশরত্ন, জননেত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শেখ হাসিনাকে বুঝিয়েছেন।

এব্যাপারে স্কুলের অধ্যক্ষ শাহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এ টাকা আমি গ্রহণ করিনি। এ টাকা প্রদান করা হয়েছিল মা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনাকে। তারা বর্তমানে টাকা আর্থস্বাদের অভিযোগে জেল হাজতে আছেন।

মা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষিকা রওশনয়ারার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি এই স্কুল পরিচালনার জন্য অনুদান হিসেবে অধ্যক্ষ শাহীনকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাকে নিয়োগও দিয়েছে, নিয়োগ পত্র অনুযায়ী প্রতিমাসে ৯ হাজার সাতশত ৪৫ টাকা হারে বেতন ভাতাদি দেয়ার কথা, কিন্তু ১০ মাস গত হলেও কোন বেতনভাতাদি পরিশোধ করেনি। উল্টো তিনি স্কুলের আসবাবপত্র বেড় করে ভাড়াটিয়ে উঠানোর চেষ্টা করেছে। আমরা সেটা করতে দেইনি। সে বর্তমানে পলাতক।

মা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সাথে যুক্ত ছিলেন খানসামার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার এই স্কুলের সাথে তেমন কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। আমি শুধু ঐ স্কুলে শিক্ষক পদে একজন প্রার্থী দিয়েছিলাম।

স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নয়ন জানান আমাকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয়েছিল। এবং আমি আমার বাড়ী ভাড়া দিয়েছি স্কুল পরিচালনার জন্য, কিন্তু আমি এতো কিছু জানি না। বাড়ী ভাড়ার চুক্তিপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান চুক্তিপত্রে আমার স্বাক্ষর ছিল কিন্তু শাহীনের কোন স্বাক্ষর নাই। সে জন্য আমিও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না।

স্থানীয় কমিশনার আল মামুন জানান বিষয়টি আমি শুনেছি মা ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও প্রধান মন্ত্রীর ভাইস্তা নাম করে স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদের কাছে টাকা নিয়েছে। আমার কাছেও এধরনের অভিযোগ এসেছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার(মাধ্যমিক) মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এবিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন বলে জানান।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ