spot_img

ঠাকুরগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেনি

মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও,

জনতারআদালত.কম । ২১ আগষ্ট, ২০১৭ ।

ঠাকুরগাঁও জেলায় সোমবার মাদারগঞ্জের হাট গরুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড় জমে উঠেনি। হাটে দেশী গরুর চেয়ে ভারতীয় গরুর আমদানি কম। এ বছর কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় দেশী গরুর চাহিদা অনেক বেশি। আর এ কারনে গরু বিক্রয়ে আশাবাদী হচ্ছেন খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং গরুর গৃহপালিত মালিকরা। এতেই এবার দেশীয় গরুর দাম বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

বর্তমান বন্যা মোকাবেলার কারনে ও গরুর খাবার খর-খুটার অভাবে দাম বেশি হওয়ায় বর্তমান বাজারে গরুর যথেষ্ট দাম না থাকায় হতাশায় ভূগছেন গৃহপালিত গরুর মালিক কৃষ্ণাপুর গ্রামের খোরসেদ আলী। তিনি জানান, “হামরা ইবার কুরবানির গোশত মনে হয় ভাল করে খাবা পারিমো, মাদারগঞ্জ হাটখানত গেনু, গরুডা বেচিবা বেচেহেনে চিন্তা কনু কুরবানিও দিম,বাড়ীর পার্শ্বত ২ কাঠা জমিও কিনিম, ঈদের খরচও করিম, এলা হাটত যাহানে দেখেচু গরুর দাম নাই, হাটত পাইকারলাও পাই, গরুডা বিক্রি হইলনি, বাড়ীত ঘুরাই লেগাছু, ওই তাহানে মনডা মোর খুব খারাপ”।

সরজমিনে হাটে দেখা যায়, আর এক গরুপালিত মালিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের হরিনারায়নপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে, তিনি জানান, “মুই ভাই গরীর লোক, ২ বছর ধরেহেনে একটা আরিয়া গরু পুশেছিনু ও মানুষের বাড়ী কাজ করে টাকা যোগাড় করিছনু, মোর বেটিডাক এবারে এই গরুডা বিক্রি করে কোরবানি ঈদের পর বেহা দিম, এলা হাটত ওসেহেনে দেখেচু গরুর এতো দাম কম! ৪৫ হাজার টাকার গরু মাত্র ৩০ হাজার টাকা কহচে, কিন্তু কয়েকদিন আগেই তো ওই গরুডাই মোর বাড়ীত ৪৫,০০০/- টাকা কহিচেলো পাইকারলা, এলা মুই গরু বেচেহেনে কি করে মোর বেটিক বেহা দিম, এই চিন্তাই মোর খুব মনডা খারাপ, কুরবানির গোস্ত মনে হয় মোর মুখত চরিবেনি” গত শুক্রবার ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লাহিড়ী গরুর হাটে ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় গরু ও দেশীয় গরুর কম আমদানি হওয়ায় দেশীয় গরুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

গরুপালিত খামারের মালিক আশিফ ও মুস্তাফিজের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার প্রায় ৩০-৪০ টি গরু পালন করে কোরবানি হাটে চড়া দামে বিক্রয় করার জন্য, কিন্তু হাটে এসে গরুর দাম দেখে তারা অনেক হতাশায় ভূগছেন এবং বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক, সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ায় এই ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবে এই চিন্তাই দিনযাপন করতেছে। তারা বলেন, গত বছরে ২৫-৩০ টি গরু পালন করার পর বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভবান হয়েছি কিন্তু এবারে একদিকে বন্যা ও অন্যদিকে গরুর খাবারের দাম বেশি হওয়ার কারনে অর্ধেক টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে খামারের মালিকরা জানান।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, পশু সম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই জেলায় যত গরু লালন পালন করা হয়েছে তা এই জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এবারে আমাদের দেশে ভারতীয় গরুর কম আমদানির কারনে দেশীয় গরুর দাম ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাটগুলোর সকল ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন প্রতিটি কোরবানির গরুর হাটে থাকলে উপকার ভোগী হবো এবং প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরিক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই অবাধে গরু বিক্রি হচ্ছে।

আগের বছরে প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কর্মচারীরা মিলে পরিক্ষা-নীরিক্ষা হতো, কিন্তু এবার না থাকা অবস্থায় কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। জেলার প্রতিটি হাটে ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদে কোন উল্লেখ্য নেই সরকারি নিময়ম না মেনে দেদারছে গরুর মূল্য দিয়ে রশিদ অবৈধভাবে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে এরকম অনেকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই স্থানীয় হাটের লোকজন এই বিষয়টির জন্য প্রশাসন ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ