spot_img

জামালপুরে মেলান্দহে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

রবিউল হাসান লায়ন, জামালপুর ,

জনতারআদালত.কম । ২৩ আগষ্ট, ২০১৭ ।

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রান পেয়ে হঠাৎ বিষন্ন মুখে ফোটে উঠে এক ঝিলিক আনন্দের হাসি। সেই আনন্দের হাসি নিয়ে মেলান্দহের নাংলা ইউনিয়নের ৫নং চরের ষাটোর্ধ রহিম উদ্দিন বলেন এবারের ভয়াবহ বন্যায় আমার পরিবারের লোকজনকে একাধারে পাঁচদিন চিড়ামুড়ি খেয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আজ বসুন্ধরার ত্রান পেলাম।

এর আগে মেলান্দহের রাজা মিয়ার দুই কেজি চিড়া ও গুড় ছাড়া কেউ কিছু দেয়নি। তবে আপনাদের ত্রাণের শাড়ী লুঙ্গীসহ চাল চিড়া,লবন, ওষুধ, বিস্কুট ও গুড়ের পেকেট পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছি। একইদিন সকালে দুমুঠো শুকনো চিড়া খেয়ে ত্রাণ নিতে মেলান্দহের উমির উদ্দিন হাইস্কুল মাঠে এসেছিলেন মেলান্দহের কুলিয়া গ্রামের বৃদ্ধা ছামিরন বেওয়া। তিনি আকাশের দিকে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে করতে বলেন, ত্রাণ পাইয়া শান্তি পাইলাম বাবা। যারা আঙ্গরে ত্রাণ দিলো আল্লাহ যেন তাগোরেও ভালাই করেন।

মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের পচাবহলা গ্রামের সত্তুরোর্ধ বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ বসুন্ধরা গ্রুপের দেয়া ত্রাণের ব্যাগ হাতে নিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, বাবারে কয়দিন হয় কষ্ট করতাছি। বানের জন্যে ভাত খাবার পাইনা। আজ আপনেগরে চিড়াগুড় শান্তিমত খাবার পামু। একই উপজেলার হরিপুর গ্রামের সিরাজুল হক, পাঁচপয়লা গ্রামের রাহেলা বেগম ও কালু সেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবারের বন্যায় মেলান্দহের প্রায় সবকটি ইউনিয়নের কৃষকদের ক্ষেতের ফসল ও সবজি নষ্ট হলেও বসুন্ধরার ত্রাণ পেয়ে বুকে আশার সঞ্চার হয়েছে বেঁচে থাকার।

তারা বলেন, আল্লাহ আমাদের বিপদের দিনে বসুন্ধরার মতো বিশাল ত্রানকর্তাকে পাঠিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে আমারা হয়তো শান্তিতেই বাঁচবো। মেলান্দহের উমির উদ্দিন হাইস্কুল মাঠে বুধবার দুপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের ৩০০ শাড়ী-লুঙ্গিসহ ত্রানের পেকট পাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৪৮০ জন মানুষের চোখে-মুখে ফোটে উঠেছিল প্রাপ্তির তৃপ্তি। এছাড়াও ওইদিন বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রান সহাযতা পাওয়া সকলের মুখেই ফোটে উঠেছিল প্রাপ্তির হাসি।

বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের কমীরা গতকাল বুধবার ত্রাণ নিয়ে ছুটে গিয়েছিল জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায়। এর আগেরদিন মঙ্গলবার একই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ইসলামপুরের চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া ও সাপধরী ইউনিয়নের ১ হাজার ২০০ বন্যার্তকে ত্রানের পেকেটসহ ৬০০ শাড়ী-লুঙ্গি এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ হাজার ২০০ বন্যার্তকে অনুরুপ ত্রান সামগ্রী প্রদান করেছেন।

মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের কর্মীরা সেখানে দিনভর উপস্থিত থেকে বানভাসী মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন চাল, আটা, চিড়া, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ, স্যালাইন ও শাড়ি-লুঙ্গি। ত্রাণ পেয়ে ভীষণ খুশী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বন্যার্ত অভাবি মানুষগুলো।

মেলান্দহে ইস্ট ওযেস্ট মিডিয়া লিমিটেড কর্মীদের সার্বিক সহযোগীতা করেছেন মেলান্দহের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জন কেনেডি জাম্বিল, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুজা, সাধারণ সম্পাদক মো: জিন্নাহ, মাদারগঞ্জ পৌর মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির প্রমুখ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ