spot_img

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পুনর্বাসনের জন্য অনেক কিছু করণীয় আছে : জেলা প্রশাসক

রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,

জনতারআদালত.কম , ১৭ জুলাই, ২০১৭ ।

 

জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেছেন, বন্যার পানি কমে গেলেও আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। বরং নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসন এবং মানুষ যাতে স্বাভাবিক জীবনে, স্বাভাবিক কর্মে ফিরে আসে তার জন্য আমাদের অনেক করণীয় আছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সোমবার বেলা ১২টায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর এসব কথা বলেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাসেল সাবরিন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণ সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, যমুনার পানি বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয় প্রবাহিত হয়েছিল। সেটা এখন কমে নিচে নেমে এসেছে। হয়তো আগামী ৭২ ঘন্টায় পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে জেলার ৭ উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৪৮টি ইউনিয়ন কম-বেশী বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও ৩টি পৌরসভাও বন্যায় প্লাবিত হয়।

এবারের বন্যাকে তিনি স্বপ্লস্থায়ী হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, বন্যার আশঙ্কা এখনও চলে যায়নি। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে হয়তো দ্বিতীয় দফা আঘাত আসতে পারে। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, টানা এক সপ্তাহের বন্যায় ৩৯ হাজার ৫৫টি পরিবার অর্থাৎ ২ লাখ ২৮ হাজার ৮শ ৮০ জন লোক কম-বেশী ক্ষতিগ্রস্ত অথবা দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। প্রাণহানি ঘটেছে ৬ জনের। ৭ হাজার ৪শ ৪ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ৮ কিলোমিটার বাঁধ ও ৮০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা বন্যার আপতকালীন সময়ে ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছিলাম। ৩ হাজার ৫শ জন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। পানি কমে যাওয়ায় সেই সব আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ বাড়িঘরে ফিরে গেছেন। বলা যেতে পারে কেউ আর আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন না।

তিনি বলেন, বন্যা হয়ে যাওয়ার পরে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলায় ৭৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। বন্যার্তদের মাঝে বিপুল পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু টিউবওয়েল উচু করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্ততা নিশ্চত করা যায়।
জেলা প্রশাসক বলেন, এটা যেহেতু আগাম বন্যা সুতারং বীজতলার সঙ্কট দেখা দিতে পারে। সরকারীভাবে বীজতলা করার জন্য যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে সেটা কৃষি বিভাগ, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিএডিসি বাস্তবায়ন করবে। এছাড়াও চাষী পর্যায়ে নিজেদের প্রয়োজনে বীজতলা করছে। আমার মনে হয় না বীজতলা নিয়ে কোন সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, পুনর্বাসনের বিষয়গুলো নিয়ে গতকাল (রবিবার) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচন করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টকে প্রাইরটির ভিত্তিতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সাংবাদিকদের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বন্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ইতিবাচক মনোভাব আমি লক্ষ্য করেছি। সে জন্য আমি আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার যে দায়িত্ব বোধ আমি আপনাদের সকলের মধ্যে সেটা পুরো মাত্রায় দেখেছি। সংবাদ অবশ্যই পরিবেশ করবেন। কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে এটি পরিবেশন করাটাই আপনাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি কোথায়ও যদি শূন্যতা থেকে থাকে কোথায়ও যদি কোন অপ্রাপ্তি থেকে থাকে সেটি সহজে যেন পূরণ হয়- তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা যায়- সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা আশা কামনা করছি। ইতিমধ্যে আপনাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমরা অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

বন্যাজনিত মানুষের প্রাণহানি সম্পর্কিত তথ্যগত বিভ্রাট সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যা না হলেও স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। সেই মৃত্যুকেও বন্যাজনিত বলাটা সঠিক হবেনা। খোঁজ-খবর নিয়ে বন্যাজনিত কিনা নিশ্চিত হয়ে বলাটা ঠিক হবে। না হলে তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সচেতন এবং দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ