spot_img

জামালপুরে ফের বন্যা,সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৬০ হাজার মানুষ পানি বন্দী,কমপ্লেক্স বিলীন

রবিউল হাসান লায়ন, জামালপুর ,

জনতারআদালত.কম । ১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

জামালপুরে টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ নদনদীর পানি তীব্র গতিতে বাড়ায় ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৮৭ সেন্টি মিটারে উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যমুনাপাড়ের মানুষগুলো। আগাম প্রস্তুতি না থাকায় ভেসে গেছে বেড়ের ধানসহ অন্যন্য খাদ্য সামগ্রী। ঘরের জিনিসপত্রও সরাতে পারেনি। মানবেতর জীবন কাটছে পানিবন্ধি মানুষের।
সবচেয়ে বন্যার ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে যমুনা পাড়ের উপজেলা ইসলামপুরে। এখানে একদিনে বন্যার পানি দ্রুত গতিতে বাড়ায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে সাতটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নদী ভাঙ্গনে সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলিন হয়েছে। চেঙ্গানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেকোন মুহুর্তে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিম বলিয়াদহ ও শিংভাঙ্গা গ্রামে বন্যার পানিতে রাস্তার ধারে আজগর আলী,আব্দুল্লাহ,মতি শেক,আজাহারসহ ২ হাজার মানুষ রাস্তার ধারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। খাবার সংকটে না খেয়ে আছে বলে ষাটোর্ধ খাদেজা বেগম জানিয়েছে।

পিয়ারা বেগম জানান,গতকাল হতে বাড়িতে পানি উঠায় আবাদি ঘরের ভেড়ে মজুদ থাকা ধান,মরিচ,সবজি নিয়ে পানির তোরে ভেসে গেছে।

এদিকে গুঠাইল বাজার, আমতলী বাজার, ডেবরাইপ্যাচ,বামনা,শিংভাঙ্গা, উলিয়া,সোনামুখি,রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সাথে পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নই বন্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারন করায় উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ৬৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
পানিবন্দি মানুষগুলো গবাদি পশু নিয়ে বিভিন্ন উচু স্থানে স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি হাঁস,মুরগী সহ গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

বেলগাছা চেয়ারম্যান আঃ মালেক জানান,পানি বৃদ্ধি হওয়ায় বরুল,মুন্নিয়া,চর মুন্নিয়া নদী ভাঙ্গতে শুরু করেছে। পশ্চিম বেলগাছা মন্নিয়া,বরুল এলাকার মানুষ চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। সাপধরী চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন জানান, আমার এলাকা নদী ভাঙ্গনের ফলে চেঙ্গানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নদীর গর্ভে বিলনি হয়ে গিয়েছে। এছাড়া কাশারীডোবা,িিশলদহ,সিন্দুরতলী বিশরশি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। চিনাডলী চেয়ারম্যান আঃ সালাম,জানান,আমার পুরো ইউনিয়ন বন্যায় তলিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় তুলনায় ত্রান অপ্রতুল হয়েছে। পার্থশী চেয়ারম্যান ইফতেখার বাবুল জানান,মলমগঞ্জ হতে জারুলতলা রাস্তাটি তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সমস্যা আরো বেশী সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান,বন্যা কবলিত বিভিন্ন আশ্রিত জায়গায় গুলোতে গিয়ে গবাদি পশুর টিকা,ভেকসিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রানি সম্পদ অফিস। আমরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবো।

এদিকে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্ধি মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল জানান, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ২০ মেট্টিক টন ত্রাণের চাল, নগদ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়ে চিনাডুলী,বেলগাছা,সাপধরী,নোয়ারপাড়া,সদর,পাথর্শী,কুলকান্দি ইউনিয়নে ২ হাজার পরিবারে মাঝে বিতরন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম এহছানুর মামুন জানান, হঠাৎ পানিবৃদ্ধি হওয়ায় দূর্ভোগ বেড়েছে। তবে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ