রবিউল হাসান লায়ন, জামালপুর , জনতারআদালত.কম । ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৮ একর জায়গাজুড়ে দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কনরা হয়েরছে। সেগুলোর চকচকে পিঠ তাক করা আকাশের দিকে। সোলার প্যানেল গ্রামবাসীর কাছে নতুন কিছু নয় বটে, কিন্তু একসঙ্গে এত প্যানেল কেউ দেখেনি।
সিমলা বাজারে গড়ে তোলা এই স্থাপনা আরেক দিক দিয়ে অনন্য। এটি দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ‘এনগ্রিন সরিষাবাড়ী সোলার প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামে এই কেন্দ্র। পরিমাণে ততটা বেশি মনে না হলেও এটা কেবলই শুরু। এ রকম আরও পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ৩৩২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ আসতে যাচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যে।
সরিষাবাড়ীর এই ব্যতিক্রমী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে সরকারি এবং দেশি-বিদেশি বেসরকারি খাতের মধ্যে এক অনন্য সহযোগিতার ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রটির জন্য জায়গা দিয়েছে সরকারি খাতের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আর বিনিয়োগ করেছে বেসরকারি খাত। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জার্মানির আইএফই এরিকসেন এজি এবং দেশের কোম্পানি কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ও জুপিটার এনার্জি লিমিটেড। এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে গঠন করেছে যৌথ বিনিয়োগের কোম্পানি ‘আইএফই-সিপিসি- জেইএল কনসোর্টিয়াম’।
সরিষাবাড়ীতে পিডিবির ৩৩/১১ হাজার ভোল্টের যে বিতরণ উপকেন্দ্রটি রয়েছে, সেটিকে ঘিরে পিডিবির মালিকানাধীন ৮ একর জায়গা পড়ে ছিল। সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে কাজে লাগানো হয়েছে সেই অব্যবহৃত জমি। কাছাকাছি চলে গেছে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইন। এই কেন্দ্রের ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ওই সরবরাহ লাইন দিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রবেশ করছে। কেন্দ্রটি থেকে সরকার তথা পিডিবি প্রতি ইউনিট (১ কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুৎ কিনছে প্রায় ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা দরে।
সরকার তথা পিডিবি আগামী ২০ বছর কেন্দ্রটি থেকে এই দামে বিদ্যুৎ কিনবে। বর্তমানে জ্বালানির দাম কম হওয়ায় ফার্নেস তেল, এলএনজি, কয়লা, ইউরেনিয়াম প্রভৃতি জ্বালানি থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ইউনিট প্রতি ১০ টাকার বেশি খরচ হয় না। সেই হিসাবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও দাম এখনো অনেক বেশি। তবে পরিবেশ সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদে দাম কমে আসবে বলে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও এই ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হচ্ছে।


























