রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর ,
জনতারআদালত.কম , ৮ আগষ্ট, ২০১৭ ।

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা মরা গরুর মাংসসহ আব্দুল হক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পৌর এলাকার চক হাটবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কোন রোগবালাই ছাড়াই গত এক মাসে ওই এলাকায় দশটি গরুর আকস্মিক মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার চক হাটবাড়ী গ্রামে জসিম শেখের ছেলে আব্দুল হক (৪৫) মরা গরুর মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছে। তিনি সন্ধ্যার হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন অবস্থানে কৌশলে গরুকে বিষ খাইয়ে মৃত্যুবরণ করিয়ে আসছিল। গরু মৃত্যুর পর গরুর মালিকগন একটি ফাঁকা জায়গায় সেটা ফেলে আসতো।
এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা আব্দুল হক মুচিকে খবর দিতো একটি গরু মারা গেছে। তারপর মুচি এসে গরুর চামড়া তুলে নিয়ে চলে যাওয়ার পর আব্দুল হক সেই মরা গরুর মাংস বস্তায় তুলে তার বাড়ীতে নিয়ে ঘরের ভিতরে বড় পাতিলে বরফ দিয়ে রাখে দিত।
গভীর রাতে আব্দুল হক ওই মরা গরুর মাংস নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় খাবার হোটেল গুলোতে বিক্রি করে আসছিল। গত এক মাসে চক হাটবাড়ী গ্রামের আব্বাছ আলীর, রশিদ মিয়ার, জামাল মিয়ার, আনু মিয়ার ১টি করে, আব্দুলের ৩টি ও লক্ষীচানের ২টি গরুর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। রোববার বিকাল ৫টার দিকে চক হাটবাড়ী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের একটি গাভী পেটে আট মাসের বাচ্চাসহ মরা যায়।
পরে গাভীটিকে ওই গ্রামের পিছনে বিল পাড়ে ফেলে আসে। কিছু সময় পর আব্দুল হক ওই মরা গরুর মাংস সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এ সময় ওই গ্রামের আবুল হোসেন ও মফিজ উদ্দিন দেখতে আব্দুল হক মরা গরু মাংস বস্তায় তুলছে। মাংস নিতে দেখেও কিছু না বলে আবুল হোসেন ও মফিজ উদ্দিন বাড়ী চলে আসে। পরে আব্দুল হক মাংস নিয়ে বাড়ী ফিরলে তারা পুলিশকে সংবাদ দেয়।
সংবাদ পেয়ে রোববার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরা গরুর মাংস বরফ দিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করে এবং আব্দুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার সকালে তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে অব্দুল হককে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে অফিসার ইনর্চাজ রেজাউল ইসলাম খান বলেন, আব্দুল হক গরু বিষ খাইয়ে মারে পরে ওই মরা গরুর মাংস সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো। মরা গরুর মাংসসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


























