spot_img

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যুব সমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণ দান একান্ত প্রয়োজন

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক , জনতারআদালত.কম । ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

 

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যুব সমাজকে সামরিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষণ দান একান্ত প্রয়োজন ।

বিশ্বের প্রত্যেক দেশে দুর্যোগের নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। অতীতেও ঘটেছিলো, বর্তমানেও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। এসব দুর্যোগ বিভিন্ন দক্ষ ট্রেনিং প্রাপ্ত বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা মোকাবেলা করে থাকে। কিন্তু আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে অনেক দুর্যোগ পরিকল্পিতভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঘটিয়ে থাকে। আবার, কিছু কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগও ঘটে থাকে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য সরকারের কর্মপদ্ধতি পূর্ব থেকে ঠিক করা থাকে। কিন্তু, পরিকল্পিতভাবে যেসব জাতীয় দুর্যোগ ঘটানো হয়ে থাকে –তা মোকাবেলা করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার এবং তা মোকাবেলায় পূর্ব থেকে কোনোরূপ প্রস্তুতিও থাকে না। কিন্তু, সারাবিশ্বের উন্নতশীল দেশগুলিতে দুর্যোগে আপদকালীন সময়ের জন্য জনগণকে, বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য সামরিক ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে।

রাজনৈতিক দুর্যোগে রাজনৈতিক কর্মীবাহিনীকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও স্বেচ্ছাসেবী দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের আপদকালীন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জনগণ, বিশেষ করে যুব সমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জনগণ আছে। পরিকল্পিতভাবে ঘটানো জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা একান্ত আবশ্যক। এই বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশেও বহুবার জাতীয় দুর্যোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাঙ্গালী জাতি ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট করে, বহু প্রাণের বিনিময়ে মনুষ্য সৃষ্ট জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা করে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে।

                         ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণকালীন ছবি

বর্তমানেও আমাদের প্রিয় দেশে এক মহা দুর্যোগের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এই দুর্যোগের নাম- গোদের উপর রোহিঙ্গা বিষফোঁড়া। বাংলার স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বি.এন.পি-জামাত জোট জঙ্গিগোষ্ঠী অনেক দুর্যোগ পাকিস্তানীদের ইশারায় এদেশে ঘটিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি-জামাত জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানীদের সাথে সখ্যতা করে যেভাবেই হোক শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে সব ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

উত্তরপাড়া ষড়যন্ত্র, মধ্যপাড়া ষড়যন্ত্র, পিলখানা ষড়যন্ত্র, আদালত ষড়যন্ত্র করেও যখন সবই ফেইল তখন নাটের গুরু ঘষেটি বেগম চিকিৎসার নামে দেশত্যাগ করে চলে গেলেন। তাও আবার দীর্ঘ দিনের জন্যে। বাংলার মানুষ তখন বুঝতে না পারলেও, তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন সুচতুর প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন- বিদেশে গিয়ে পাকিস্তানী বন্ধুদের সাথে শলা-পরামর্শ করে ঘষেটি বেগম ও তার দোসররা বাংলাদেশে যেকোনো একটা দুর্যোগ সৃষ্টি করবেই। কারণ, তাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। শেখ হাসিনার সরকারের উৎখাত।

                বাংলাদেশের আকাশে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার অনুপ্রবেশ

আল্লাহ্‌র মাইর, দুনিয়ার বাইর। আল্লাহ্‌ যাকে উপরে তুলে, তাকে তো আর চক্রান্তকারীরা পায়ে ধরে নীচে নামাতে পারে না। তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছিলো একমাত্র শেখ হাসিনার সরকারকে সরানোর জন্য। কিন্তু আল্লাহ্‌র রহমতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা জননেত্রী থেকে এখন বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছে। তারা চেয়েছিলো মায়ানমারের সাথে যুদ্ধ হলে চীনের সহায়তায় বাংলাদেশকে হারিয়ে দেবে, মানে- শেখ হাসিনা হেরে যাবেন।

কিন্তু বিধিবাম, আল্লাহ্‌ পাক তাঁর প্রিয় বান্দা শেখ হাসিনাকে বারবার জিতিয়ে দেন আর ঘষেটি বেগম পাকিস্তানী চক্রান্তের জালে আবদ্ধ হয়ে দিনদিন পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। যখন আদার বেপারীরা জাহাজের খবর পেয়ে স্থির করলো, আন্দোলন করেই হোক আর যেভাবেই হোক শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই হবে। ঠিকই তারা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত করে রোহিঙ্গাদের চলমান অবস্থাটি সৃষ্টি করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই তীক্ষ্ণবুদ্ধির অধিকারী, এর আগেও আমার বেশ কয়েকটি লেখায় বারবার বলেছি। তিনি তাঁর তীক্ষ্ণবুদ্ধির জোরে, ঠাণ্ডা মাথায় ধীরস্থিরভাবে চক্রান্তকারীদের সকল চক্রান্ত সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছেন।

                       সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মায়ানমারের সামরিক জান্তা বহুবার উস্কানি দিয়েছে যাতে একটা যুদ্ধ বাধে। চক্রান্তকারীরা একটি যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির পায়তারা করছে, কিন্তু মানবতার নেত্রী ঠাণ্ডা মাথায় অতি সুকৌশলে রোহিঙ্গা মুসলমান ভাইবোনদের বুকে টেনে নিলেন, আশ্রয় দিলেন, খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করলেন। বন্যা-দুর্যোগের পর মনুষ্য সৃষ্ট মহা দুর্যোগ- রোহিঙ্গা সমস্যাও তিনি ধীরেধীরে স্বাভাবিক করে তুললেন। দেশবাসী খুশি, সারাবিশ্ব খুশি, মুসলিম জাহান খুশি। প্রত্যেকেই মানবতার নেত্রী জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাবাস বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা, আপনি যুগযুগ ধরে বিশ্ব মানবতার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন। আপনি একের পর এক পাকিস্তানী আই.এস.আই –এর লেলিয়ে দেওয়া জামাত, জঙ্গি ও লাবড়াপার্টি বি.এন.পি’র সমস্ত চক্রান্তে আপনার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সুকৌশলে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিয়েছেন। এখন শান্তির এক মানবিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মাননীয় নেত্রী প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ কোটি বার সালাম। আপনি ঘষেটি বেগমের চক্রান্তে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সারাবিশ্বে আপনার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে সমাধান করেছেন, সেজন্য বাংলার সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই সংগ্রামী অভিনন্দন ও প্রাণভরা শ্রদ্ধা। বাংলার+ শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ সুখে-দুঃখে-দুর্যোগে আপনার পাশে থাকবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার অগ্রদুত, আপনার কাছে সবিনয় নিবেদন-

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আপনার নির্দেশিত পথের ভ্যানগার্ড হিসেবে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যুব সমাজকে সামরিক, রাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে দেশপ্রেমিক জনগণ অনুভব করছে এবং এটিই সময়ের দাবী।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ