spot_img

চীন সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে দিল্লি, পাশে আমেরিকা

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

ক্রমশই জটিল হচ্ছে ডোকা লা অচলাবস্থা। ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের পরিস্থিতি! শনিবারও ভারত-চীনের মেজর জেনারেলদের নেতৃত্বে নাথু লা পাসে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। কিন্তু, তাতেও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। সেকারণেই যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে এবার উত্তর-পূর্ব চীন সীমান্তে আরও বেশি করে সেনা মোতায়েন করল ভারত। হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে বায়ুসেনাকেও। এই পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন। চীনকে বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘বালখিল্য আচরণ’ করছে বেজিং। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই দুই দেশের সেনা আধিকারিকের মধ্যে বৈঠক হলেও মেলেনি কোনও সমাধানসূত্র।
ভারত-ভুটান-চীনের ত্রিদেশীয় অঞ্চল ডোকা লা নিয়ে গত ৫০ দিন ধরে উত্তপ্ত নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সম্পর্ক। ডোকা লায় চীনা সেনাবাহিনীর রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় অচলাবস্থা। চীনের ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’কে ঠেকাতে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ভারত। আর সেখান থেকে সেনা সরিয়ে না নিলে ভারতকে একাধিকবার যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে চীন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। জানিয়েছে, ডোকা লা ইস্যুতে ‘প্রাপ্তবয়স্কে’র মতো আচরণ করছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, চীন যেন ‘কিশোর’। বারবার মেজাজ হারিয়ে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে।
ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করে আমেরিকার নাভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেমস আর হোমস বলেছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ভারত যা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সবকটিই ঠিক। ওই বিরোধ জিইয়ে রাখার জন্য দিল্লি উসকানি দিচ্ছে না। বেজিংয়ের মতো জবাবও দিচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডোকা লা ইস্যুতে ভারতের আচরণ একেবারেই প্রাপ্তবয়স্কের মতো। আর চীনের আচরণ বয়ঃসন্ধিতে পা দেওয়া কিশোরের মতো। অল্পেতেই মেজাজ হারাচ্ছে।’
ভারত-চীনের সম্পর্ক প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে হোমস জানিয়েছেন, ‘জলেই কর্তৃত্ব কায়েম করার জন্য বেজিং উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধটা জিইয়ে রেখেছে। কিন্তু, জলে নামার আগে স্থলসীমান্তের নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত করা উচিত ছিল চীনের।’ পাশাপাশি, ভারত-চীন যুদ্ধ হলে অ্যাডভান্টেজ নয়াদিল্লি বলেও জানিয়েছেন হোমস। তাঁর কথায়, ‘হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে চীনের থেকে ভৌগোলিক সুবিধা ভারতের অনেক বেশি। সেখানে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে চীনকে বেশি খেসারত দিতে হবে।’
কিন্তু, এ বিষয়ে আমেরিকা চুপ কেন? জবাবে হোমস বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর উপদেষ্টারা চান না হিমালয় পার্বত্য এলাকার এই বিতর্কে আমেরিকা নাক গলাক। তবে, এই বিরোধ যদি আরও বাড়ে, তাহলে হয়তো নয়াদিল্লির সমর্থনেই ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসতে হবে।’ যদিও, সমস্যা সমাধান দুই শক্তিধর প্রতিবেশী দেশকেই করতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন নাভাল ওয়ার কলেজের এই অধ্যাপক।
এদিকে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুক্রবারের পর এদিনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন ভারত-চীনের মেজর জেনারেলরা। কিন্তু সেখানেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। বৈঠকে বলা হয়, দৌলত বেগ ওন্ডিসহ উত্তর লাদাখের খানিকটা অংশ, অরুণাচলের কিবিথু, লাদাখের চুসুল ও অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াংয়ের বুম লা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা। কিন্তু, ভারতের প্রস্তাবে রাজি হয়নি চীন। তারপরেই উত্তর-পূর্ব চীন সীমান্তে আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বায়ুসেনাকেও। সিকিম, অরুণাচল, কাশ্মীর, হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের মোট ৩ হাজার ৪৮৮ কিমি সীমান্ত ভাগ রয়েছে ভারত ও চীনের মধ্যে। আর এই অঞ্চলেই অন্তত ৪৫ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ডিমাপুরের থ্রি কর্পস এবং তেজপুরের ফোর কর্পসকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ