ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১২ জুলাই, ২০১৭ ।

চীনের যাবতীয় হুংকারকে ফুৎকারে উড়িয়ে সিকিম-সীমান্তে আরও আড়াই হাজার সোনা মোতায়েন করল দিল্লি। পাশাপাশি আলোচনার পথও যে খোলা রয়েছে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদেশ সচিব এস জয়শংকর। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেছেন, সীমান্ত ইস্যুতে চীনের সঙ্গে বিবাদ এই প্রথম নয়। অতীতেও বহুবার দু’দেশের সীমান্ত-বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তা আলোচনার মাধ্যমে মিটমাটও হয়েছে। এখনও যে সেই পথে সমস্যা মিটবে না, এমনটা নয়।
ডোকা-লা বিতর্কে গতকালই কড়া কথা শুনিয়েছে বেজিং। চীনের ওয়েস্ট নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা লং জিংহামও বলেছেন, সিকিম সীমান্ত থেকে ভারত সেনা না সরালে কাশ্মীরে লাল ফৌজের ঢুকতে আপত্তি কোথায় ? এর আগেও বেজিং বলেছিল, কাশ্মীরের মতো সিকিমেও স্বাধীনতার জিগিড়কে উসকে দেওয়া হবে। চীনের চাপের কাছে যে পিছু হটতে নারাজ, তা সিকিম-সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে বুঝিয়ে দিয়েছে দিল্লি। শুধু তাই নয়, সেখানে স্থায়ীভাবে সেনাঘাঁটি গড়ে তোলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ফলে এটা স্পষ্ট, ডোকা-লা নিয়ে চীনের চাপকে অগ্রাহ্য করাই সাউথ ব্লকের এখন অন্যতম কৌশল।
এদিকে ডোকা-লা সীমান্ত বিতর্কে হোয়াইট হাউসের তরফে কিছু না বলা হলেও মুখ খুলেছেন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের প্রাক্তন আধিকারিক আলেসা ইয়ারস। চীনের সীমান্ত নীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, সীমান্ত নিয়ে সমস্যা তৈরি করা চীনের চিরাচরিত কৌশলের একটি অঙ্গ। দক্ষিণ চীন সাগর তার অন্যতম উদাহরণ। এই সাগর নিয়ে চীন এখনও বিতর্ক-বিবাদ জিইয়ে রেখেছে। আর এই কৌশল ওরা প্রতি মুহূর্তে ইঞ্চি ইঞ্চি করে বদল করে। এরই পাশাপাশি ডোকা-লা ইস্যুতে চীন-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওবামা প্রশাসনের এই আধিকারিক।
তবে এদিন সিঙ্গাপুরে লি কুং ইয়ো স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন জয়শংকর। সেখানেই ডোকা-লা ইস্যুতে সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানিয়েছেন, অতীতে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই তা মেটানো সম্ভব হয়েছে। এবারের সমস্যাও নতুন কিছু নয়। তবে এরই পাশাপাশি তিনি বলেছেন, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন-ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সে দিকে নজর রেখেই দু’দেশের সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি মেটানো উচিত।


























