spot_img

চারিদিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস, শুনাইবে শান্তির ললিত বাণী ব্যর্থ পরিহাস । হুশিয়ার- সাবধান !

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক , জনতারআদালত.কম । ১৫ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

 

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও তাদের এ দেশীয় ও বিদেশী শক্তীর সহায়তায় বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে দেশের হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে । ধ্বংস করেছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ । নির্যাতন করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপর, পাশবিক নির্যাতন করেছে অসংখ্য নারী ও শিশুর উপর। বিদেশে পাচার করেছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিলো । কিন্ত, এদেশের জাগ্রত মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধের কারণে চক্রান্তকারীদের মনোবাসনা পূরণ হয় নাই ।

দেশে এখন সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত । সরকারের প্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা । সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের রোল মডেল । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন সর্বদিকে উন্নতির পথে, সারা বিশ্ব যখন শেখ হাসিনার প্রসংশায় পঞ্চমুখ, তখন পাকিস্তানি পরাজিত শক্তি ও তাদের দালালরা দেশে-বিদেশে নানাবিধ চক্রান্ত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।

আগে উত্তর পাড়ার কাঁধে বন্দুক রেখে তারা বারবার ষড়যন্ত্র করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলো, আর বর্তমানে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যের অভাব দূর করেছে, মানুষকে সুখ-শান্তি দিয়েছে, সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য চিকিৎসা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছে , বেকারত্ব দূর করেছে, তখনই নতুন করে উত্তর পাড়ার বদলে দক্ষিণ পাড়ার ঘাড়ে বন্দুক রেখে ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের চক্রান্তে যোগ দিয়েছে এ দেশের কিছু জ্ঞানপাপী, ভন্ড, প্রতারক, মানুষের রক্ত চোষা দল ।

কিন্তু এরা শিক্ষিত অথচ বোকা । এরা জেনেও মানে না জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন সফল দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন জনপ্রিয় একজন রাষ্ট্রনায়ক ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে  একই গোষ্ঠী আগে শিকার করতো উত্তর পাড়ার ঘাড়ে বন্দুক রেখে , এখন তারাই খোলশ বদলিয়ে দক্ষিণ পাড়ার ঘাড়ে বন্দুক রেখে ভিন্ন কৌশলে শিকার করতে চাচ্ছে ।

যিনি উক্ত চক্রের নেতৃত্বের ভূমিকায় আছেন, তিনি হলেন ডিগবাজি রাজনীতিবিদ । তিনি নাকি শত শত কোটি টাকার গুলশানের একটি বাড়ি প্রায় ৪০ বছর যাবত অবৈধভাবে দখল করেছিলেন । আইনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে হেরে গিয়ে বাড়ী ছাড়তে হয়েছে । সেই বাড়ী নিয়ে উনি আবার রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কান্নাকাটি করে অবশেষে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরম্ভ করেছেন । এই ব্যক্তিই সেই ব্যক্তি , যাকে তার দলীয় নেত্রীসহ কেও বিশ্বাস করে না । তিনি কিছু ব্যর্থ, লোভী, চাঁদাবাজ লোকজন নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন । কিন্তু মানুষ তাকে চিনে । তার বহুরুপী চেহারা মানুষ জানে ।

এইসব পাকিস্তানি শকুনের দল আবার ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকে ঘাপটি মেরে ধরেছে । যেভাবেই হোক এদের প্রতিরোধ করতেই হবে ।

সম্প্রতি, সামাজিক মিডিয়ায় এক সাক্ষাতকারে একজন  কর্ণেল (অবঃ) সাহেব , যিনি একটি রাজনৈতিক দলের কান্ডারী, বলেছেন , বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নাকি ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ ছিলো । মুজিবনগর সরকার নাকি ভুয়া ছিলো । অথচ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুজিবনগর সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতাও নিয়েছেন । তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানী সোয়াদ জাহাজ থেকে কর্ণেল জাঞ্জুয়ার ( পাকিস্তানি অফিসার ) নির্দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ খালাশ করেছিলেন বাঙ্গালী জাতিকে নিধন করার জন্য । তিনি ২/৩ বার মন্ত্রীও হয়েছিলেন । এখন স্বপ্ন দেখেন শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের । তিনি কয়েকবার সরকার উৎখাতের দিন-ক্ষণও দিয়েছিলেন ।

মূলত এরা তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব কায়েদে আজমের টুপি মাথায় দিয়ে জামাতী ও বিএনপির নেতা সাঁজতে চায় ।

আরেকজন তারই সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন , বাংলাদেশের স্বাধীনতা নাকি  কোন একক নেতৃত্বে আসে নাই !

শুনেন সাহেব, আপনার কাজ এটা না। আপনার যে কাজ তা আপনি ভালো করে করেন , সীমা লংঘন করবেন না । ১৯৭৪ সালের মতো দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ১৫ই আগষ্ট এর মতো আর কোন ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার দুঃসাহসটিও করবেন না ।

আপনাদের মতো সমস্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বলছি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অহেতুক কোনরুপ ষড়যন্ত্র করবেন না । এখন সময়টা ১৯৭৫ সাল না । ছোট-বড় অনেক নদী পাড় হয়ে অনেক পানি সমুদ্রে গিয়ে জমা হয়েছে । মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সোনার বাংলা বিনির্মাণে এদেশের কোটি কোটি মুক্তিকামী জনতা শুধু প্রতিবাদের জন্যই নয়, প্রতিরোধের জন্যও প্রস্তুত আছে ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওয়াদাবদ্ধ । কোন অনির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট বা প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার খায়েশ পূরণ হতে দিবে না ।

মুক্তিকামী জনতা জানতে পেরেছে রাজাকার,আল-বদর,আল-শামস ও তাদের প্রেতাত্মাদের নির্মুল করতে ৩০ লক্ষ শহীদের কবর থেকে ডাক এসেছে……

 ” জাগো বাহে, কুন্ঠে সবাই …… ???

 

 

 

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ