ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর দায়ে রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আন্তর্জাতিক গণ-আদালত। ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি, বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল ও সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার দুপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের মিলনায়তনে রোম ভিত্তিক পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি) সাত সদস্যের একটি গণআদালত এমন ঘোষণা দেন।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কোচিন এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে চলমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ এই আদালতের শুনানিতে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের কথা বলে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণকে কৌশলগত লক্ষ্যে’ পরিণত করে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, আর এটা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধ।
শুনানির পর রায়ে বলা হয়, উপস্থাপিত তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে এই বিষয়ে একমত হওয়া যায় যে, মিয়ানমার সরকার তাদের কোচিন ও মুসলিম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের জনগণের উপর ‘গণহত্যা’র প্রয়াস নিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। এমনকি মিয়ানমার তার মুসলিম নৃগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যার চালানোর অপরাধে দোষী।
রায়ে বিচারক দানিয়েল বলেন, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধে মিয়ানমার সরকার দোষী বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই দেশটিতে থাকা কাচিন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অপরাধে মিয়ানমার সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল ১৭টি সুপারিশ করেছে। এছাড়া কয়েকটি সুপারিশ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান বিচারক গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার বলেন, রোহিঙ্গা, কাচিন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার যাচাইয়ের জন্য জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান দলকে অবশ্যই মিয়ানমারের ভিসা ও দেশটির রাখাইন রাজ্যে সহজে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই সংবিধান সংশোধন ও নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আইনের সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের অধিকার ও নাগরিকত্ব দিতে হবে।


























