spot_img

খুন, ধর্ষণ, শিশু ও নারী নির্যাতন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যের কারণ কি ?

জনতারআদালত.কম , ৫ আগষ্ট, ২০১৭ ।

 

বিচারহীনতার ফলে বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র বেড়ে চলেছে। যার কারণে রেহাই পাচ্ছে না তিন বছরের শিশুও । ঘটে যাচ্ছে একের পর এক ঘটনা । খুন, ধর্ষণেরও যেন কোন কমতি নেই । প্রতিদিন খবরের কাগজের সিংহভাগ জুড়েই থাকে এ সংক্রান্ত সংবাদ ।

এমন অবস্থায় সরকার যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছে , অন্যদিকে  বিরোধী দলগুলোরও যেন হাতে হঠাৎ চাঁদ পাওয়ার মতো অবস্থা । মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের প্রতিবাদী রুপ এখন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছে প্রেসক্লাব চত্বর এলাকায় ।

 

জাতি জানতে চায়, হঠাৎ কেন বেড়ে গেলো এ জাতীয় অপরাধগুলো ?

 

সত্যিই কি এ জাতীয় অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে নাকি প্রচার হচ্ছে বেশী ?

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, যা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের অধীনে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সেবায় গঠিত । এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে ২০০০ সাল থেকে। এখানকার পরিচালক বলছেন, নির্যাতনের ঘটনাগুলো আগের মতই ঘটে চলেছে। তবে তা প্রকাশ পাচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, আমাদের হিসেব মতে, সংখ্যা আসলে বাড়েনি, বরং মানুষের প্রকাশ বেড়েছে। ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমের কারণে খবরগুলো প্রচার হচ্ছে বেশী  ” ।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হচ্ছে শিশু ও নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে ।

 

একশ্রেণীর মানুষ শিশুদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে পর্ণোগ্রাফির প্রভাব রয়েছে। শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। নানা শ্রেণীর এবং বয়সের ব্যক্তিরা এসব করছে। শিশুদের ওপর বল খাটানো বা প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো সহজ হয়। ফলে সেই সুযোগটি নিচ্ছে অপরাধীরা।

শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন। তিনি বলছেন, মূলত দরিদ্র শ্রেণীর শিশুরা বাবা শ্রমজীবী বাবা-মায়েদের এবং তাদের অনুপস্থিতিতে এইসব শিশুদের দেখার কেউ থাকে না। আরেকটি গ্রুপ যারা নিজেরাই কর্মজীবী তারা, এবং গৃহকর্মীরা ধর্ষণের ঝুঁকিতে থাকছে বেশি।

তিনি বলছেন, অনেকে অজ্ঞতার কারণে আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই আদালত বা পুলিশের দোড়গোড়ায়া পৌঁছাচ্ছেন না। ফলে এসব অপরাধ ঘটছেই। “ অনেকে শিশু বা অভিভাবকই জানে না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। আর অনেকে দেখছেন অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে কিন্তু বিচার তো হচ্ছে না। বাইরে মিটমাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। অনেক দেশে কিন্তু দ্রুত বিচার আইনে সাজা হয় এবং মানুষ তা দেখে সচেতন হয়”।

 

ধর্ষণের মামলা চলাকালীন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা তৈরি করে, বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।

ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে এসব প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে কি ভাবছে রাষ্ট্র ?

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তুলছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের সন্নিবেশ ঘটাতে গিয়ে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করা যেতে পারে, যেখানে শিশু ভিকটিমকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে না।

“ আইন সংশোধন করা যেতে পারে এভাবে যে, এক্সপার্টদের কাছে ভিকটিমকে নেয়া হবে। এরপর তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর আর কোনও প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না। ওই চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট দেবে পুলিশ। চিকিৎসকদের সাথে মানবাধিকার কর্মীও থাকতে পারেন”।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

কিন্তু এমন অনেক নজির আছে যে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।

তবে এ বিষয়ে অ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারক স্বল্পতা এখানে একটি সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া মামলা ঝুলিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ডিফেন্স ল ইয়ারের মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে।

বর্তমান সময়ের আত্মহত্যা, খুন , ধর্ষণের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অপসংস্কৃতির চর্চা। এসব অপসংস্কৃতির অনুকরন করছে আমাদের নারী ও পুরুষরা । আমাদের সমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারকে কঠোর হস্তে অপসংস্কৃতির প্রচার রুখতে হবে ।

পাশাপাশি এ সমস্ত অপরাধকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় খুব দ্রুত আনাটা জরুরী বলেই জাতি মনে করছে ।

 

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ