spot_img

খালেদা জিয়ার ব্যর্থতার ইতিহাস অনেক : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা পরিদর্শনের নামে কক্সবাজারে বেগম জিয়ার উৎসবমুখর বিলাসবহুল সফরের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার মন্তব্য- ‘সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত প্রদান এবং ত্রাণকার্য পরিচালনায় ব্যর্থ’ বলে মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন।

সরকারি দলের সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর এক প্রশ্নের জাবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, খালেদা জিয়ার হর্ষৎফুল্ল এবং বর্ণাঢ্য শতাধিক মোটর গাড়ির শোভাযাত্রা, ঢোল এবং হাতি জনগণকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয় যে, তিনি রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে যাচ্ছেন না কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফর ছিল তার পার্টির একটি শোডাউন এবং তারা সেটাতেই মনোযোগী ছিলেন।

ঐতিহাসিকভাবেই মানুষের দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোতে বিএনপি’র অতীত রেকর্ড নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের সময়ও বিএনপি সরকারে থাকলেও আওয়ামী লীগই আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জন্য দরদ থেকেই আওয়ামী লীগ সবসময় দুর্গতদের পাশে দাাঁড়িয়ে এসেছে, কারণ আওয়ামী লীগের রাজনীতিটাই জনগণের জন্য। যা সম্পূর্ণই বিএনপি-জামায়াতের থেকে ভিন্ন।

খালেদা জিয়ার ব্যর্থতার অনেক ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নির্বাচন বানচাল করতে, সরকার উৎখাতে, আন্দোলন গড়ে তোলায় এমনকি আদালতের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্টে তার বাড়িটা ধরে রাখাতেও ফেল করেছেন। কাজেই তিনি যে, সরকারের ব্যর্থতা দেখবেন সেটাই স্বাভাবিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৭ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির এক প্রশ্নের জবাবে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে রোহিঙ্গারা যেন মিশে না যায় এ বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে উস্কানি ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে এই রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলেন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যারও সে সময় সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এই সমস্যার পেছনে উস্কানি রয়েছে যাহোক সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশির সঙ্গে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায় এবং কাউকেই বাংলাদেশের ভূখন্ডকে কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

সরকারি দলের সদস্য সেলিনা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত আট বছর এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদসহ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোট ৪০টি ডিগ্রি ও পুরস্কার সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র পেয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ডিগ্রি ও ২৭টি পুরস্কার রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ একটি সম্মানজনক ও উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য এখন সর্বজনবিদিত।

তিনি বলেন, বিগত আট বছরে আমাদের সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বশান্তি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় বিগত যে কোনো সময় থেকে একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখে গেছে। মিলেছে একের পর এক সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া আর কোন সরকারের আমলে কোন সরকার প্রধানই এতগুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমার সকল অর্জনই এদেশের মানুষের। আগামী দিনগুলোতে আমি এদেশের সকল মানুষকে নিয়ে তাদের উন্নয়নে ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাব। আন্তর্জাতিক এই পুরস্কারগুলো আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাবে।’

সরকারি দলের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদ অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০১৭ সালের অক্টোবর মোট ৯ হাজার ২৫৪ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎ আমদানিসহ) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ