মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও , জনতারআদালত.কম । ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

এবারও নিজ নির্বাচনী আসনে বেকায়দায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২৩ ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারকে কাছে টানতে না পারলে ফের আসনটি হারাতে পারেন বিএনপি হেভিওয়েট এ প্রার্থী। তবে ১ লাখ ২০ হাজার বিশাল হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল গ্রহন করেছেন তিনি। উদ্দেশ্য সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানা। ১৯৯১ সালে ঠাকুরগাঁও সদর আসনটিতে প্রথম নির্বাচন করে আওমীলীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে হারেন ফখরুল ।
১৯৯৬ সালে আওমীলীগের একই প্রার্থীর কাছে হারার পর ২০০১ সালে বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্রসেন কে হারান। ২০০৮ সালে রমেশ চন্দ্রসেনের কাছে আবারও হারেন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ -২০০১ আওমীলীগ ক্ষমতাশীন থাকা সময় খাদেমুল ইসলাম মারা যান। উপনির্বাচনে আওমীলীগের প্রার্থী হয়ে রমেশ চন্দ্র সেন এমপি হন। যতদূর জানা যায়, রমেশ সেন ছিল খাদেমুল ইসলামের নির্বাচনী ডোনার।
এলাকা ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জনা গেছে, ফখরুল যেমন দলের মহাসচিব হিসেবে এলাকায় এগিয়ে রয়েছেন, তেমনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন অনেকাংশে দলীয় কোন্দলের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ঠিক আগের মত রয়েছেন বলে তৃনমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
গত ৯ম জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারের কারণেই ঠাকুরগাঁও সদর আসনে ৫৭ হাজার ভোটে পরাজিত হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম । এর পর দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করেননি।
আসন্ন একাদশ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে এসেছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও-১ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ পাওয়ার পর সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটোর দিকে দৃষ্টি আওয়ামী লীগের।
অপরদিকে বিএনপিতে একক প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে একত্রিত হয়ে দল গোছানোর জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ।
আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল, বর্তমান এমপি ও তার নিকটতম নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ সামনে রেখে আগামী নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বিএনপি।
কিন্তু দীর্ঘদিন সরকার ক্ষমতায় থাকায় বর্তমান আওয়ামী লীগের নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন নানা কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভক্তি হয়ে পড়েছেন। আর আগামী নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও সদর আসনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তন দেখতে চায়। তৃণমূল নেতকর্মীরা নতুন কোন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত কর্মীসভা ও গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। নিয়মিত গণসংযোগ, দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বণিক যোগাযোগ রাখছেন তারা। আর আওয়ামী লীগের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংককে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য ও তৃনমূলে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে আছেন নতুন সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো।
অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে মনোনয়নের জন্য প্রার্থীতা ঘোষনাও দিচ্ছেন না। তবে নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু প্রার্থী মাঠে মানতে পারেন। এছাড়া মূলত অর্থনৈতিক নানা দুর্নীতি এবং আড়ালে থেকে উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করায় ঠাকুরগাঁওয়ে ভেতরে ভেতরে নিজ দলেই কর্মীদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছেন বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ মিলেছে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে তিনি হেরে গিয়ে এখন কেবলই জেলা কমিটির একজন সদস্য মাত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলের দপ্তরি থেকে পুলিশের কনস্টেবল, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওতাধীন সব নিয়োগের ক্ষেত্রেই ঘুষ দিতে হয় এমপি রমেশ চন্দ্র সেনকে। জামায়াতের লোকজনকেও তিনি চাকরি দিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। ক্ষেত্রে বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্য অভিযোগ করেন, এমপির নিয়োগ বাণিজ্যের টাকার যোগান দিতে গিয়ে সবর্শান্ত হতে হয়েছে অনেক পরিবারকে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, শহরের ৬৫টি স্কুলে সম্প্রতি তিনজন করে দাপ্তরিক নিয়োগ দেয়া হয়। এসব দাপ্তরিক নিয়োগের ত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের কাছের লোকজন। এক্ষেত্রে অনেক পরিবার জায়গা জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আবার অনেক ক্ষেত্রে পদের জন্য জামায়াতের লোকজন বাড়তি টাকা দিলে চাকরি বঞ্চিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এভাবে আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমূল কর্মীকে জায়গা জমি বিক্রি করে অসহায় হতে হয়েছে। তাছাড়া এমপির সাথে নেতাকর্মীরা দলের সমস্যা কথা বলতে গেলেও লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন অনেকেই।
অন্যদিকে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫ হাজার টন গম নিয়ে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের কাছের লোকজনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার আওয়ামী লীগের কমিটি নির্বাচনেই সভাপতির পদে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি দবিরুল ইসলামের কাছে হেরে গেছেন রমেশ চন্দ্র সেন। নিয়োগ বাণিজ্য, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্বের কারণেই নিজ দলের জেলা কমিটির নির্বাচনে তিনি হেরে গেছেন বলে অভিযোগ একাধিক কর্মীর। এছাড়া টাকার বিনিময়ে, ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পার্থী তাহমিনা মোল্লার বিরুদ্ধে এমপি রমেশ চন্দ্র সেন ভেতরে ভেতরে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
ঠাকুরগাঁও উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ এমপি রমেশ চন্দ্র সেন অঘোষিতভাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। যার ফলে উপজেলা নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁওয়ে হেরে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো। তিনি উপজেলা নির্বাচনে ভোট পেয়ে ছিলেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার। বর্তমান এমপির যোগসাজসের কারণে উপজেলায় ক্ষমতায় আসে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর রহমান।
এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের এসব কর্মকান্ডের জবাব জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির নির্বাচনে দিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তার পরাজয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন দবিরুল ইসলাম। এতে বিভক্ত হয়ে যায় জেলা আওয়ামী লীগের রমেশ গ্রুপের একাংশ। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি। দীর্ঘ দিনেও জেলার সাথে রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। রেল যোগাযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ । এসব দাবিতেও এমপি রমেশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ ।
প্রায় ১৬ বছর ধরে এ জেলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা পড়েনি ঠাকুরগাঁওয়ে। আর সে কারনেই তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তবে এবার আ’লীগে ভিন্ন চিত্র দলীয় সমর্থনে সবাই এক কাতারে কাজ করছে বলে জানান জেলা আ’লীগের র্শীর্ষ নেতারা।
সরেজমিনে কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনের পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রমেশ চন্দ্র সেনের বিপে যেতে পারেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়ে জোরেসোরে তৈরি হচ্ছেন কয়েকজন প্রার্থী।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির আলী জানান, রমেশ সেন এলাকায় অন্যান্য জেলার মত উন্নয়ন করেছেন সত্যি। কিন্তু কর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ভাল না। যেহেতু তার বয়স হয়েছে নতুনদেরকে আসার সুযোগ করে দেওয়া উনার দায়িত্ব বলে মনে করছি। নতুনরাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার কারিগর।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আমি আবেদন করব। কিন্তু নেত্রী (শেখ হাসিনা) যা বলবেন তার ওপর আমার কোনো কথা নেই। নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন, তার জন্য নির্বাচনে কাজ করতে ঝাঁপিয়ে পড়বো। এ আসনে আওয়ামী লীগের তৃনমূলে এগিয়ে থাকা মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো বলেন, তিনি ১৯৯৬ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলের সমর্থনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নিজ দলের কয়েকজন নেতা গোপনে তাঁর বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করায় তিনি হেরে যান। নির্বাচনে ভোট পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ভোট।
টিটো আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে সাত মাস ১১ দিন জেল খাটতে হয়েছিল। এই আসনের যুবক শ্রেণীর ৮০ শতাংশ সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে তৃণমূলে নির্বাচনের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হলে তিনি বিপুল সমর্থন পাবেন। কারণ জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি নিজ দল ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সব পদকে গ্রহণ করবেন।
এ দিকে তৃণমূল কর্মীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যাদের কাজ করার ইচ্ছা তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তৃণমূলের সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মনোনয়ন পত্র অনেকেই জমা দিতে পারেন। এতে কিছু আসে যায় না। নেত্রী যাকে মনোয়ন দেবেন তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের একক প্রার্থী হবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই আসনের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিকল্প কোনো প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে না। জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো প্রতিদ্বন্ধী নেই। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির কোন বিকল্প নেই। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলার সাধারণ সম্পাদক তরুন নেতা রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী।
তিনি বলেন, পারিবারিকভাবেই তিনি খুব ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাদা প্রয়াত ইদু চৌধুরী ১৯৭২ ও ১৯৭৮ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁর দাদা এ জেলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছেন। ওই সময় জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। আর সেই কারণে এ জেলার মানুষ তাঁর দাদাকে এখন পর্যন্ত সম্মান করে এবং মনে রেখেছে। জেলার তথ্য অনুযায়ি সদর আসনটিতে হিন্দু সম্প্রদায় মানুষের ভোট রয়েছে লাধিকের বেশি।
আর তৃণমূল ভোটাররা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নতুন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবারো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী হলে অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন ভোট ব্যাংকে। তবে গত ২০ বছরে জাতীয় পার্টির ভোটার কমলেও বেড়েছে জামায়াতের ভোটার বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর আসনটিতে জামায়াতের ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ভোট রয়েছে। তবে হিন্দু ভোটারকে কাছে না টানতে পারলে বিএনপির আসনটি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে দাড়াবে বলে অভিমত স্থানীয় বিশ্লেষকদের।


























