spot_img

ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপলক্ষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া, চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোন এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কো থেকে ৭ মার্চের ভাষণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোর মহাপরিচালক এবং যে দেশসমূহ ভোট দিয়েছেন আর যারা উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে আর যেন রাজকার-আলবদর-আলশামস, খুনি ও ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। আগামীর বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক মুক্তির ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘদিন সাতই মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সত্য ইতিহাস চির ভাস্বর। ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আড়াই হাজার বছরে সব ভাষণের মধ্যে এই ভাষণটি স্থান পায়। ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। জাতির পিতার হাতে কোনো নোট ছিল না। কিছুই ছিল না। তাকে বারবার ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয় পাকিস্থান শেখ মুজিবুরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। একটি জাতির জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না।

বলেন, “এই ময়দানে জাতির পিতা সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যে ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সেই ভাষণেই তিনি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে। এমনকি জাতির পিতা জানতেন এই ভাষণের পর তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেজন্য তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে।’ তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।”

জাতির পিতা এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিলেন একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজও শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে তিনি দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় এই ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই ভাষণ যারা প্রচার করেছে তাদের মামলা-হামলা করে হয়রানি করেছে। এই স্বীকৃতির পর যারা এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল, তারা এখন কোথায় মুখ লুকাবে ?

বিকেল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।

এর আগে ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক  স্বীকৃতির এই উদযাপন শুরু হয়।

প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুরু হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার সামনে ছিলো হাতি আর ঘোড়ার গাড়ি, এরপর ট্রাক। এরপর একে একে জনপ্রশাসনের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, বিআইডব্লিউটসি, পর্যটন করপোরেশন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে শুরু করে তৃণমূলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ